টাকা ছাপানোর গুঞ্জন নাকচ করলেন অর্থমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সম্প্রতি টাকা ছাপানো নিয়ে যে আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে, তা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে যে ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসাই এখন সরকারের লক্ষ্য।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার নীতি সুদের হার বাড়িয়ে দেয় এবং বেসরকারি খাতকে ‘ক্রাউড আউট’ করে ফেলে, যা টেকসই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, সরকার এমন নীতি অনুসরণ করতে চায় যেখানে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ তৈরি করে মূল্যস্ফীতি বাড়ানো হবে না এবং বেসরকারি খাতের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি হবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সরকার ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে অর্থনৈতিক সুবিধা পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের সরাসরি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। তার মতে, পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাই তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা সাশ্রয় ও বিনিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত খরচ (আউট অব পকেট ব্যয়) কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ জরুরি। এতে পরিবারের জীবনমান উন্নত হবে এবং কার্যত মানুষের প্রকৃত আয়ও বাড়বে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাতকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতই দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, গ্রামীণ কারিগরদের পণ্য ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও রফতানি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে, ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয় কভার করা সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
