রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের চিঠি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি চেয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৩০ মার্চ) দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অপারেশনস বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মনির হোসেন চৌধুরী জানান, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়ার ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের উদাহরণ অনুসরণ করেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘স্যাংশন ওয়েভার’ সংক্রান্ত অনুরোধটি করা হয়েছে।
যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের আগের দিন (২০ মার্চ) আমি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে একটি সরকারি পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। সেই আলোচনায় আমরা তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, ভারতের মতো ছাড় ব্যবস্থার অধীনে বাংলাদেশকে রাশিয়া থেকে অন্তত দুই মাসের সমপরিমাণ, অর্থাৎ ৬ লক্ষ টন ডিজেল আমদানির অনুমতি দেওয়া উচিত। বৈঠকের পর মার্কিন কর্মকর্তারা বাংলাদেশকে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অনুরোধ জমা দিতে বলেন ‘
যুগ্ম সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তারা আমাদের একটি চিঠি পাঠাতে বলেছিলেন এবং আমরা ঈদের পরের দিনই (২২ মার্চ) সেই চিঠিটি পাঠিয়েছি। আমরা এখন তাদের উত্তরের অপেক্ষায় আছি।’
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এই যুগ্ম সচিব আরো জানান, বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর নির্ভর করে আসছে। ভারতের সঙ্গে একটি বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল সরবরাহের কথা ছিল। তবে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সরবরাহে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং এর ফলে ওই সময়ে মাত্র ৫ হাজার টন জ্বালানি ভারতের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সম্প্রতি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনার পর আবার নিয়মিত সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ওই আলোচনার পর থেকে তিন ধাপে ভারত থেকে ২২ হাজার ডিজেল ইতিমধ্যে পাওয়াও গেছে।
ভবিষ্যতের সংকট মাথায় রেখে জ্বালানি তেলের জন্য ইন্দোনেশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। আর অস্ট্রেলিয়া ও অ্যাঙ্গোলা থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চালান সফলভাবে নিশ্চিতও করা হয়ে গেছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
