ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারকৃতরা হাসপাতাল ও ক্যাম্পে আছেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি নৌকায় থাকা প্রায় ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং আরো ২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আহতদের গ্রিসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহত ও যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশু ছিল- যা ঘটনাটিকে আরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এটি প্রমাণ করে যে পাচারকারীরা কোনো ধরনের ঝুঁকি বা মানবিক দিক বিবেচনা না করেই মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং তাদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র জড়িত। এ চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ ও লিবিয়া—দুই দেশেই সক্রিয়। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠায় বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল তথ্য থাকলে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করা ও এরপরই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দ্রুত এ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন—উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। শুধু এ ঘটনার বিচার নয়—দীর্ঘমেয়াদে মানবপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বন্ধে আমাদের স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে।
