সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই হট্টগোলের আভাস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:১০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আর সংসদের প্রথম এই অধিবেশনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানামূখী হট্টগোলের সম্ভাবণা।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ, জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ, গণভোট ইত্যাদি একরাশ ইস্যু ঘিরে হট্টগোলের তীব্র আভাস পাওয়া যাচ্ছে প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনটিতেই।
ইতিমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১০টায় প্ল্যাকার্ড হাতে প্রবেশপথে অবস্থান নেবেন তাঁরা। এনসিপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জনতার দাবি’ তুলে ধরতেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
প্ল্যাকার্ডে এনসিপির পক্ষ থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে— ১. সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গণভোটে প্রকাশিত মতামত অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করা, ২. রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করা এবং ৩. জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। দলটি বলছে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এসব দাবি জানানো হচ্ছে।
আরো পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ
অন্যদিকে, প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে রেখেছে সংসদের প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী জোট শরীক এনসিপি। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধীদল ওয়াক-আউট করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তার ওপর জুলাই সনদ আর সংবিধান সংস্কার পরিষদ -এই দুই ইস্যু তো রয়েছেই। বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিএনপির নেতাদের দাবি, বিষয়টি সংবিধানের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় তারা সংসদে সংশোধনীর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে চান । তবে বিরোধী জোট মনে করছে, এটি মূলত সংস্কার প্রশ্নে সরকারের সদিচ্ছার পরীক্ষা ।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা এরই মধ্যে একাধিকবার জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপি যদি জুলাই সনদ মেনে সংস্কারের পথে হাঁটে, তবে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। তা না হলে সংসদ ও রাজপথ উভয় জায়গাতেই তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে।
জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এসব ইস্যুর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সংসদে জোরেসোরে প্রশ্ন তুলবে বিরোধী দল।
