শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে প্রাণ দেওয়া শিক্ষিকা মাহেরীন স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাহসিকতা, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অসীম দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, মন্ত্রিসভায় ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারজয়ীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমাজসেবা ও জনসেবায় অবদানের জন্য মরণোত্তরভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীকেও।
রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাহসী ও মানবিক শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন।
আরো পড়ুন : স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান
পরবর্তীতে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
মাহেরীন চৌধুরী নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী গ্রামের মৃত মাহিতুর রহমানের মেয়ে। তিনি বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতিও ছিলেন। রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনি বাংলা ভার্সনের (তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি) কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মরহুমার স্বামী মনসুর হেলার জানান, তার স্ত্রী ইচ্ছা করলেই নিজের জীবন বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেন। শ্রেণিকক্ষের ভেতর থেকে একের পর এক শিক্ষার্থীকে টেনে বের করতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি নিজেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে পড়েন। ঘটনার সময় মাহেরীন তাকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে বলেন যে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে আটকে পড়েছে এবং তাদের উদ্ধার করতে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই ঈদ ছাড়াও মাঝেমধ্যে মাহেরীন চৌধুরী গ্রামের বাড়িতে আসতেন এবং এলাকার গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তার মানবিকতা ও সাহসিকতা এলাকাবাসীর কাছেও সুপরিচিত ছিল।
শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করা এই শিক্ষিকার আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে।
