×

জাতীয়

রফিকুল ইসলাম

ভোট পড়েছে দাঁড়িপাল্লায়, পাস করেছে অন্যজন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

ভোট পড়েছে দাঁড়িপাল্লায়, পাস করেছে অন্যজন

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গত নির্বাচনে কী হয়েছে সবাই জানেন। কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে তাও গোটা দেশের মানুষ জানে। ভোট পড়েছে দাঁড়িপাল্লায়, আর পাস করানো হয়েছে অন্যজনকে।’

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পল্টন কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার বিচারের দাবি এবং শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘কোনো আদর্শবাদী শক্তিকে দমন-পীড়ন, হত্যাকাণ্ড বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায় পরিকল্পিতভাবে নেতৃত্বশূন্য করতে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত শেষ হয়ে যায়নি। বরং বাংলাদেশের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে গত নির্বাচনে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।’

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তাকে শুধু সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করলে ভুল হবে।’

এই হত্যাকাণ্ড কেন ঘটানো হয়েছিলো? প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে কতজন সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছিলেন? ৪/৫ জন। তাও মেজর জেনারেল বা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা নিহত হননি। অথচ পিলখানায় দুদিনব্যাপী ডালভাত কর্মসূচির নামে ঠান্ডা মাথায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ডালভাত কর্মসূচিতে এই ৫৭ জন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন না। তবুও তাদের হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুদিনব্যাপী পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের সময় কি সরকার ছিল না? তারা কী করেছেন? নিহতদের পরিবারের আর্তনাদ যখন আকাশে-বাতাসে ভাসছিল, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মুচকি হাসছিলেন। ওনার দায়িত্ব কী ছিল? তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ-এর ভূমিকা কী ছিলো? এতে বোঝা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান উভয়েই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা জড়িত না থাকলে একজন মানুষের জীবনের কি কোনো দাম নেই?’

ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘ডালভাতের সমস্যার জন্য কাউকে কি হত্যা করতে হয়? তারা বসে বসে মুচকি হাসলেন এবং সোনারগাঁও হোটেল থেকে খাবার এনে খেলেন- এসব জাতি জানে, সাংবাদিকরা আরও ভালো জানেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ও সেনাবাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি কেবল ডালভাতের জন্য ছিল না। এই মাস্টারপ্ল্যান ছিলো দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দুর্বল করা এবং দেশের সীমান্তকে অরক্ষিত রাখা; যাতে তৎকালীন সরকারকে যারা ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারা এই দেশকে তাদের করদরাজ্যে পরিণত করতে পারে।’

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজও সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়নি। তৎকালীন সরকার বা দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকার কেউই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জনগণের সামনে প্রকাশ করেনি।’

তিনি অবিলম্বে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আসল ঘটনা জানা যাবে। এছাড়া ওই ঘটনার পর বিডিআরের যে কর্মকর্তারা অস্বাভাবিক পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদেরও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।’

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জামায়াতের সাবেক আমির ও সেক্রেটারিসহ ১১ জন শীর্ষ নেতাকে প্রহসনের বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চের রিভিউ রায়ে এই বিচার প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ বলা হয়েছে। দেশকে ইসলামশূন্য ও জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।’

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশ চাঁদাবাজমুক্ত করার কথা বললেও নারায়ণগঞ্জে এক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর কারখানায় চাঁদাবাজির ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একজন মন্ত্রী বলছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নিলে নাকি চাঁদাবাজি হয় না! তারা জনগণকে কী মনে করেন?’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দল সংসদে যাওয়ার এবং শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ আমরা সরকারের ভালো কাজকে সমর্থন দেব। কিন্তু কাজ যদি জনবিরোধী, দেশবিরোধী বা ইসলামবিরোধী হয়, তবে আমরা সংসদে ও রাজপথে জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দাঁড়াব।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আগের সরকারের মতো বর্তমান সরকারও দলীয়করণের ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। প্রশাসনের সব স্তরে দলীয়করণের কাজ শুরু হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমির ড. অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App