×

জাতীয়

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশ হত্যারও তদন্ত হবে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ এএম

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশ হত্যারও তদন্ত হবে

আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে বাছাই করে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের স্থাপনায় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বহু পুলিশ সদস্য নিহত হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ৪৪ জন সদস্য নিহত হন। তবে পুলিশের একাংশের দাবি, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বারবার তদন্তের দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ হত্যা ও স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলোর তদন্তে সবুজ সংকেত মিলেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনায় এসেছে। দেড় বছরেও তদন্ত না হওয়ায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে মামলা হয়েছে, কিন্তু কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তদন্তে এগোতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি তারা। যদিও বিভিন্ন ইউনিট হামলার আগে ও পরের ভিডিও ফুটেজ এবং আলামত সংগ্রহ করে রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা না থাকায় তদন্ত কার্যত থেমে ছিল।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা এসেছে, প্রতিটি ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত করতে হবে। তিনি জানান, পর্যাপ্ত আলামত থাকা সত্ত্বেও সহযোগিতা না পাওয়ায় তদন্ত থমকে ছিল। মামলা হলে অনেক রাঘববোয়ালও জড়াতে পারেন। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও অভিযোগপত্র দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যেই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আরো পড়ুন : জয়-পলক ইস্যুতে আদালতে আজ প্রথম সাক্ষ্য, বাড়ছে উত্তেজনা

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা, ফাঁড়িসহ পুলিশের স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র লুট করে এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে। লুট হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগ এখনো উদ্ধার হয়নি। পাঁচটি ঘটনায় মামলা হলেও অধিকাংশ ঘটনায় কোনো অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে পুলিশের ভেতরে ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ কথা বলছেন না। নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত ও আসামি চিহ্নিতকরণে একাধিক বৈঠক হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু দুর্বৃত্তকে চিহ্নিতও করা হয়েছে। ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় তিনটি এবং সিএমপির কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ আসামি অজ্ঞাতনামা।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় আরো মামলা হবে। অপরাধ কখনো তামাদি হয় না। জড়িতদের শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে।

আন্দোলনের সময় থানাসহ ট্রাফিক অফিস ও বক্সে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। ডিএমপির ৫০ থানার মধ্যে ২১টিসহ মোট ২১৬টি স্থাপনায় হামলা হয় এবং ১৩টি থানা পুড়ে যায়। পুলিশের টহল গাড়িও ধ্বংস করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু না হলেও ছায়াতদন্ত চলছে। সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থী ও নিরীহ ব্যক্তিদের হত্যা মামলাও তদন্তাধীন। নতুন সরকারের বিশেষ নির্দেশনা পাওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

ডিএমপির কয়েকজন সাবেক ওসি দাবি করেন, তারা ঊর্ধ্বতন নির্দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে সংঘর্ষের মুখে পড়েন। তিনি জানান, সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারী ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও নিরীহ ব্যক্তিদের হত্যার দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা প্রায় ৬১২টি। ১,১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ৬৮টি আলোচিত মামলা তদন্ত করছে, যেখানে ৯৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা আসামি। সিআইডিসহ অন্যান্য ইউনিটও তদন্তে রয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে এজাহারের সঙ্গে ঘটনার মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ঘটনার সময় উপস্থিতি যাচাইয়ে কললিস্ট ও দায়িত্ব সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, টেলিভিশন সম্প্রচার ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের কাছে ফুটেজ চেয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App