×

জাতীয়

রাষ্ট্রপতিকে না জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

রাষ্ট্রপতিকে না জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার

মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় চুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত না করেই পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার, এমন অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশ সফর ও চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানানো বাধ্যতামূলক হলেও প্রধান উপদেষ্টা তা অনুসরণ করেননি।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদমাধ্যম দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। সেগুলোর কিছু হয়তো সময়ের প্রয়োজনে জারি করা হলেও অনেকগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে তাঁকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের ফলাফল, আলোচনার বিষয়বস্তু এবং সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করবেন, এমন বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও একবারও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বা কোনো লিখিত প্রতিবেদন দেননি।

আরো পড়ুন : সাবেক প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি করার চক্রান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সম্পর্কেও তিনি অবগত নন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের রাষ্ট্রীয় চুক্তি ছোট-বড় যাই হোক না কেন, রাষ্ট্রপতিকে জানানো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। পূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা এ রীতি অনুসরণ করলেও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা তা মানেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সরকার গঠনের প্রক্রিয়া তাঁর উদ্যোগেই শুরু হয়েছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এমনকি গত দেড় বছরে একবারও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দুটি বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি ছিল কসোভো সফর, যেখানে তাঁকে একটি অ্যাসেম্বলিতে কি-নোট বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আরেকটি ছিল কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে একটি সামিটে অংশগ্রহণের বিষয়। রাষ্ট্রপতি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি চিঠির খসড়া তৈরি করে, যাতে ব্যস্ততার অজুহাতে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের কথা উল্লেখ ছিল এবং সেখানে তাঁর স্বাক্ষর চাওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি জানান, এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। পরে তিনি ওই চিঠিতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে পাল্টা চিঠি পাঠিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আচরণকে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তবে এর কোনো জবাব পাননি বলে জানান তিনি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, দেশের ভেতরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, এক উপদেষ্টা বিদেশ সফরে গিয়ে একটি বাংলাদেশি হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি নিয়ে আপত্তি তোলেন। এরপর এক রাতের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন বাংলাদেশি হাইকমিশন থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তিনি তা জানতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, এসব পদক্ষেপ তাঁকে আড়ালে রাখার কৌশলের অংশ ছিল। জনগণের কাছে তাঁর উপস্থিতি সীমিত করাই ছিল উদ্দেশ্য। তবে তিনি বলেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

উক্ত ঘটনায় তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আর কথা বলেননি বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

টাইমলাইন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ

বিতর্কিত নথি ব্যবহার করে প্রবাসী কর্মীকে বঞ্চনার অভিযোগ

বিতর্কিত নথি ব্যবহার করে প্রবাসী কর্মীকে বঞ্চনার অভিযোগ

সিডনিতে এক মঞ্চে পারফর্ম করবে জেমস-রূপম

সিডনিতে এক মঞ্চে পারফর্ম করবে জেমস-রূপম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App