নারী আসনে মনোনয়ন ঘিরে তৎপরতা, আলোচনায় যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু হয়েছে সদ্য সরকার গঠন করা দল বিএনপিতে। মহিলা দলের নেত্রীদের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদলে সক্রিয় নেত্রীরাও এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এগিয়ে আছেন।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রার্থীদের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। অনেকে বিগত আন্দোলন ও সংগঠনে অবদানের বিবরণ, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার প্রোফাইল তৈরি করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তবে দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নারী আসনের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে দলটি পাবে ৩৫টি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১টি আসন পাবে। বাকি ৩টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছোট দলের মধ্যে বণ্টিত হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন ঈদের আগে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে নবীন ও প্রবীণদের মিশ্রণ দেখা যাবে, তবে তরুণ নেত্রীরাই বড় অংশে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার (রানু), ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, নিলুফার চৌধুরী (মনি) এবং আরো কয়েক জন।
আরো পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উনি পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন: ফারুকী
এনসিপি সংরক্ষিত নারী আসনে একজন মনোনয়ন দিতে পারবে। আলোচনায় আছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম (মিতু)।
জামায়াতে ইসলামীও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মহিলা বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে আছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগের সেক্রেটারি আইনজীবী সাবিকুন্নাহার, সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একজন নেত্রীরও মনোনয়ন হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন, জয়ী হয়েছেন ৭ জন (৬ জন বিএনপি, ১ জন স্বতন্ত্র)। সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য হবেন ৫৭ জন, যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬ শতাংশ।
ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী জানান, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী নেতা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদের ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও মাঠের ভূমিকা বিবেচনা করে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন।
