×

জাতীয়

ট্রাইবুনালে সাক্ষী সাবেক সেনাপ্রধান

‘জিয়াউল একজন সিরিয়াল কিলার’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

‘জিয়াউল একজন সিরিয়াল কিলার’

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ -এ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুঁইয়া।

আর সেখানে তিনি দাবি করেছেন, অতীতে জিয়াউল আহসানকে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ মেনশন করে সেনাপ্রধান নিজেই নাকি তার পদোন্নতির বিরোধিতা করেছিলেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জিয়াউল আহসানের আইনজীবীদের জেরার সময় এক প্রশ্নে জবাবে ইকবাল করিম ভুঁইয়া জানান, তিনি আপত্তি করেলেও পদোন্নতি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য জিয়াউলকে ‘ভালো কর্মকর্তা’ বিবেচনায় পদোন্নতির সুপারিশ করেছিলেন। ফলে ওই মেজর জেনারেল জিয়াউল মাত্র একবার পদোন্নতি পেয়েছিলেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে।

আইনজীবী জানতে চান, এই পদোন্নতির পক্ষে কতজন সুপারিশ করেছিলেন। উত্তরে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য মতামত দিয়েছিলেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে তিনি দাবি করেন, অনেক সদস্যই ভবিষ্যৎ স্বার্থ বিবেচনায় মত দিয়েছেন।

জেরার একপর্যায়ে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, তিনি তৎকালীন মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন জিয়াউল আহসান একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ এবং তিনি তার পদোন্নতির পক্ষে নন। মোমেন সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করলেও, অধিকাংশ সদস্য তাকে ‘ভালো কর্মকর্তা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পদোন্নতির সুপারিশ করেন। 

জনাব ভুঁইয়া আরও বলেন, জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে সাধারণত স্টাফ কলেজ সম্পন্ন না করলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। কিন্তু জিয়াউল আহসান স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা অর্জন করেননি এবং কোর্সও করেননি। এমনকি তিনি ব্যাটালিয়ন কমান্ডও করেননি, যা কর্নেল পদে পদোন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা হয়। এই প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন-বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আর আজ সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালেও হাজির করা হয়য়ি।

প্রসঙ্গত, গুম-খুনের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়ার আংশিক জেরা সম্পন্ন হয়। বাকি জেরা ২৩ ফেব্রুয়ারি হবে।

এ মামলায় একমাত্র আসামি হওয়ায় জিয়াউল আহসানের পক্ষে লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, নাজনীন নাহার ও আইনজীবী নিজাম। আসামিপক্ষের এই আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে জেরার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের বেপরোয়া আচরণ তুলে ধরেন ইকবাল করিম। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা র‌্যাবে গিয়ে পেশাদার খুনি হয়ে ফিরে আসতেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি। এছাড়া সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তর বর্ণনা করেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।

গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো- ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পূবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ আরও তিনজনকে হত্যা। দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দেশব্যাপী ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ আজ

দেশব্যাপী ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ আজ

মালয়েশিয়া থেকে এলো ৩৪ হাজার টন ডিজেল

মালয়েশিয়া থেকে এলো ৩৪ হাজার টন ডিজেল

শনিবার যেসব এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

শনিবার যেসব এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি, ভ্যাপসা গরমের আভাস

ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি, ভ্যাপসা গরমের আভাস

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App