শপথে অনুষ্ঠানে আসছেন সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শপথ নিতে যাচ্ছে দেশের নতুন মন্ত্রিসভা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার প্রচলিত রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ প্রাঙ্গণেই এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ বাক্য পাঠ করাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচন করবে। সবশেষে বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
আরো পড়ুন : বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের
বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণ সম্পর্কে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদের বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এই প্রাঙ্গণেই “জুলাই ঘোষণা” ও “জুলাই সনদ”-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এবং শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিও এই স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এসব ঐতিহাসিক ও আবেগঘন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সংসদ ভবনে শপথ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে দেশটির প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ করছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাকে বর্ণিল সাজে সাজানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এই শপথ অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
