গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী, সংবিধানে আসতে পারে যেসব পরিবর্তন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়েছে। এই গণভোটে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
গণভোটে মোট ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৪ কোটি ৮২ হাজার ৬৬০টি ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি ‘না’ ভোট পড়ে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দিয়েই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। তিনি বলেন, সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য—এই দুই ভূমিকায় শপথ নেবেন এবং পরিষদের মেয়াদ হবে ১৮০ দিন।
আরো পড়ুন : তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না মোদি
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতির দায়িত্বে থাকা আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের ফলাফল এখন জনরায়ে পরিণত হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করে, যেখানে ৮৪টি সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এর মধ্যে ৪৮টি ছিল সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব। কিছু বিষয়ে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত ছিল। পরে সরকারের কাছে দেওয়া সুপারিশে এসব আপত্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে। সেখানে বলা হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নতুন সংসদকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আদেশের ‘ক’ অংশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি, দুদক ও ন্যায়পালসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই সনদের আলোকে গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির আপত্তি থাকলেও তা আদেশে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
‘খ’ অংশে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে। এতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে এবং শুধুমাত্র নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানের স্বাধীনতা বাড়ে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, চারটি ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং জনগণ তা অনুমোদন করেছে। তিনি বলেন, এটি শুধু সরকারের নয়, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের প্রতিফলন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে।
