×

জাতীয়

বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে গঠিত নতুন সরকারের কাছে চীনা হার্ডওয়্যারের বিকল্প প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এর পর থেকে ঢাকার ওপর নয়াদিল্লির প্রভাব কমে যায় বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বেইজিং বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরো গভীর করার সুযোগ পেয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চীন। চুক্তির আওতায় ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন তৈরির একটি কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছ থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা করছে। এই বহুমুখী যুদ্ধবিমানটি মূলত চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি।

মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, চীনা সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে এবং বিকল্প সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে চীনা সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে এসব বিকল্প প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ ও চীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে, যা উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে এনেছে। দুই দেশের পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয় এবং এ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপও গ্রহণযোগ্য নয়।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায়। তবে শেখ হাসিনার ভারতে চলে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব ভিসা পরিষেবা ও ক্রিকেট সম্পর্কেও দেখা গেছে।

বাণিজ্যিক কূটনীতিতে অগ্রাধিকার

মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ জন্য তারা নতুন সরকারের কাছ থেকে ব্যবসাবান্ধব নীতির স্পষ্ট বার্তা প্রত্যাশা করছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বিশেষ করে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে।

জ্বালানি খাতে শেভরন কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এর পেছনে উচ্চ কর এবং মুনাফা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জটিলতাকে বড় বাধা হিসেবে দেখা হয়। এখনও বাংলাদেশে স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো মার্কিন ব্র্যান্ডের কোনো শাখা নেই।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনও সবচেয়ে বড় অবদানকারী দেশ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায়ও যুক্তরাষ্ট্র একক বৃহত্তম দাতা।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তার জন্য জাতিসংঘের সঙ্গে ২ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা কাঠামোতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরো বেশি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ওয়াশিংটন একা এই দায়িত্ব বহন করতে পারবে না।

গত কয়েক বছর ধরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে খাদ্য রেশন কমানো হয়েছে এবং রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য স্থাপিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

যুদ্ধবিরতির পর বেপরোয়া ইসরায়েল, দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ হামলা

যুদ্ধবিরতির পর বেপরোয়া ইসরায়েল, দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ হামলা

বন্ধ টেক্সটাইল মিল তিন মাসে চালুর আশা: প্রতিমন্ত্রী

বন্ধ টেক্সটাইল মিল তিন মাসে চালুর আশা: প্রতিমন্ত্রী

চাকরি হারালেন মোহামেডান কোচ আলফাজ

চাকরি হারালেন মোহামেডান কোচ আলফাজ

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ গৃহবধূ

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ গৃহবধূ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App