×

জাতীয়

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে কীভাবে?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে কীভাবে?

ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোট এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশের সংসদীয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের পাশাপাশি গঠিত হবে একটি উচ্চকক্ষ।

উচ্চকক্ষ বলতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার একটি কক্ষকে বোঝায়, যেখানে অন্য কক্ষটি নিম্নকক্ষ। আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চকক্ষ হিসেবে মনোনীত কক্ষটি সাধারণত আকারে ছোট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের তুলনায় বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করে। অন্যদিকে, যেখানে কেবল একটি কক্ষ থাকে, সেটিকে একক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে একক কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং জাতীয় সংসদই আইন প্রণয়নের একমাত্র কেন্দ্র। তবে গণভোটে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পক্ষে জনগণের সমর্থন মিললে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।

গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবে। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।

আরো পড়ুন : সিইসি: যেকোনো অনিয়ম শক্তভাবে তদারকি করা হবে

গণভোটে ভোটারদের সামনে একটি প্রশ্ন থাকবে—

“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

এর উত্তরে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন।

তবে ‘হ্যাঁ’ জিতলেই উচ্চকক্ষ সঙ্গে সঙ্গে গঠিত হবে না। প্রথমে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবে। এরপর সরকার সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, যা সংসদের নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে পাস হয়ে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর কার্যকর হবে। পরে উচ্চকক্ষের কাঠামো, সদস্য সংখ্যা, নির্বাচন বা মনোনয়ন পদ্ধতি, মেয়াদ ও ক্ষমতা নির্ধারণে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ওপর নির্ভর করবে। সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন, আবার পরোক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞ, নারী বা সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মনোনয়ন ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। সদস্যরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং শপথ গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করবেন।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০টি আসন। সংসদীয় নির্বাচনে বিভিন্ন দল যে পরিমাণ ভোট পাবে, সেই আনুপাতিক হারে (পিআর পদ্ধতি) সদস্য মনোনীত হবে। অর্থাৎ কোনো দল যদি ৪০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে তারা ৪০টি আসন পাবে। এমনকি নিম্নকক্ষে আসন না পেলেও ভোটের শতাংশ অনুযায়ী উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

উচ্চকক্ষের প্রধান কাজ হবে আইন পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনা করা। সাংবিধানিক সংশোধনী বা গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে এই কক্ষের বিশেষ ভূমিকা থাকবে। তবে উচ্চকক্ষ সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে পারবে না। তারা প্রশ্ন উত্থাপনের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিল উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে সেখানে তা নিয়ে আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব বা মতামত দেওয়া হতে পারে। এতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে। অনেক দেশে উচ্চকক্ষ সরাসরি সরকার গঠন বা বাজেট প্রণয়নে ভূমিকা না রাখলেও নীতিগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। এর উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বিভিন্ন অঞ্চল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

বিশ্বের অনেক দেশেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ‘হাউস অব লর্ডস’ ও ‘হাউস অব কমন্স’, যুক্তরাষ্ট্রে ‘সিনেট’ ও ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’, এবং ভারতে ‘রাজ্যসভা’ ও ‘লোকসভা’—এই দুই কক্ষের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই এই ব্যবস্থা চালু থাকলেও বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে একক কক্ষের সংসদ বজায় রেখেছে।

বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ চালুর আলোচনা বিভিন্ন সময় উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে গণভোটে জনগণের সমর্থন মিললে এটি দেশের সংসদীয় ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। বাস্তবায়নের গতি নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্য, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আইন প্রণয়নের দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চকক্ষ কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরো পরিপক্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে, তবে সঠিক কাঠামো না হলে ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতাও বাড়তে পারে।

টাইমলাইন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ইমির জামিন মঞ্জুর

৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ইমির জামিন মঞ্জুর

ঢাকার নতুন পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন

ঢাকার নতুন পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন

ভারতে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননা পাচ্ছেন রুনা লায়লা

ভারতে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননা পাচ্ছেন রুনা লায়লা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App