পর্যটকশূন্য কক্সবাজার ও কুয়াকাটা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা ৮২ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে
দেশের বড় দুটি পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার ও কুয়াকাটায়। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কোনো ব্যক্তি নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি ও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে ও কুয়াকাটায় সেখানে হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে সৈকত সবকিছুই জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে পর্যটন এলাকার প্রত্যেক হোটেল-মোটেলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে যাতে কোনো পর্যটককে হোটেল-মোটেলের কোনো কক্ষ ভাড়া দেওয়া না হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী পয়েন্টসহ প্রধান সব পর্যটনকেন্দ্র ছিল একেবারে ফাঁকা।
একইভাবে প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাতেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে অবস্থান না করার নির্দেশনার কারণে কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সমুদ্র কন্যা খ্যাত এই পর্যটনস্পট। হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকত, সবখানেই নীরবতা বিরাজ করছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের কাছে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষের ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই ঘোষণার পর থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটক আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকেই নতুন বুকিং বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অধিকাংশ বুকিং বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে শীত মৌসুমের ভরা সময়ে হোটেলগুলো প্রায় খালি পড়ে আছে।
সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড বিলাসের এজিএম আল-আমিন উজ্জ্বল বলেন, ৮২ ঘণ্টার এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। শীতকাল পর্যটনের প্রধান সময়। কিন্তু এখন রুমগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। নতুন কোনো বুকিং নেই। এটি আমাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি।
খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল খান বলেন, নির্বাচন অবশ্যই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে দীর্ঘ সময়ের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ব্যবসার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। কয়েকদিনের আয় বন্ধ থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সময় লাগবে।
পর্যটক না থাকায় আশপাশের দোকানপাট ও রেস্টুরেন্টগুলোও প্রায় বন্ধ। অনেক ব্যবসায়ী আগেভাগেই নিজ নিজ এলাকায় ভোট দেওয়ার জন্য চলে গেছেন। ফলে কুয়াকাটার পর্যটননির্ভর অর্থনীতি কয়েকদিনের জন্য পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, নির্বাচনি দায়িত্বপালনের কারণে তাদের বেশিরভাগ সদস্য অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সীমিতসংখ্যক সদস্য দিয়ে কুয়াকাটার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে কুয়াকাটায় পর্যটক নেই বললেই চলে। তবে পর্যটক হিসেবে ভ্রমণে আসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত আছি।
হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই বুকিং বাতিল হতে শুরু করে। এতে দৈনিক লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পর্যটননির্ভর এই শহর। পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, বিচ ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও একই সংকটে পড়েছেন
