এবার ভারতীয় বেডশিট পুড়ালেন রিজভী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারতীয় বেডশিটে আগুন দিয়েছেন। এরপর ওই অনুষ্ঠানে অল্প দামে দেশিয় কিছু কাপড় বেচা হয়।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ভুবন মোহন পার্কে ‘দেশীয় পণ্য কিনে হন ধন্য’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে রাজস্থানের জয়পুর টেক্সটাইলের তৈরি একটি বেডশিট ছুঁড়ে ফেলে দেন। এ ঘটনার পর বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা বেডশিটটিতে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন।
এ সময় রিজভী ঘোষণা দেন, এখানে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা কিছু কাপড় এনেছেন। এ গুলো কম দামে বেচা হবে। উপস্থিত খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সেগুলা বেচেন রিজভী। ২০০ টাকায় শাড়ি ও ১০০ টাকায় লুঙ্গি বেচা হয়। এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতীয় পণ্য র্জন করার কারণ হলো দেশটি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে না। বন্ধুত্ব করে শুধু শেখ হাসিনার সঙ্গে।
অনুষ্ঠানে পেঁয়াজ নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ২৭ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা। এই চাহিদার বিপরীতে দেশে ৩৭ লাখ টন উৎপাদন হয়। অথচ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ায়। ভারত থেকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। আসল কথা হলো আমাদের ব্যবস্থাপনা যদি ঠিক করা যায়, তাহলে কেউ পেঁয়াজ নেবে না।
তিনি বলেন, ওরা মনে করেছে, আমরা ওদের ওপর নির্ভরশীল। ওদের ছাড়া আমাদের চলবে না। এখন দেখছে কলকাতা নিউমার্কেট বন্ধ, দোকানগুলো চলে না। আমরা আর কারোর মুখাপেক্ষী নই। মুখাপেক্ষী হয়ে কখনো থাকতেও চাই না। পরিষ্কার ভাষায় এটা ভারতকে জানিয়ে দিতে চাই।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সারা বিশ্বে আমাদের টাঙ্গাইলের শাড়ি, কুমারখালির লুঙ্গি-গামছা রপ্তানি হয়। বিশ্বখ্যাত হলো আমাদের জামদানি শাড়ি, তাঁতের শাড়ি, রাজশাহীর সিল্ক। এখনো বিয়েশাদি হলে রাজশাহী সিল্ক পরিধান করি। তাহলে কেন এ দেশের নারীরা ভারতীয় শাড়ি কিনবে? কিনতে আপত্তি নেই। কিন্তু তারা যখন আমাদের উপহাস করে, তখন আমরা কেন কিনব? কেন আমরা মুখাপেক্ষী থাকব? আমরা মুখাপেক্ষী থাকব না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা। এতে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, মহানগরের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম সরকার, ওয়ালিউর রহমান রানাসহ নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য অতি-সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তার স্ত্রীর ভারতীয় শাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।
