×

জাতীয়

নির্বাচন ও সংস্কারের চাপ বাড়ছে

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৫১ পিএম

নির্বাচন ও সংস্কারের চাপ বাড়ছে

ছবি: ভোরের কাগজ

বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রার ১০০ দিন পার হয়েছে। পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ নিয়ে পথচলা শুরু করে এ সরকার। সাদা চোখে ১০০ দিনে তেমন বড় অর্জন হয়তো নেই। তবে সম্ভাবনা বিশাল। প্রথমত, দেশের মানুষের নজিরবিহীন সমর্থন এবং দ্বিতীয়ত, উন্নয়ন সহযোগীসহ বহির্বিশ্বের সমর্থন ও স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার আশ্বাস।

কিন্তু আলোচ্য সময়ে সম্ভাবনার সবটুকু কাজে লাগানো যায়নি। সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ-রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজ চায়-কোনো সরকার যাতে ভবিষ্যতে দানবে রূপ না নেয়, এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে। বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি মনে করে, নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার দরকার, অন্তর্বর্তী সরকারের সেটুকু করা উচিত।

বাকিটা নির্বাচিত সরকার করবে। কারণ, বড় সংস্কারের বৈধতা দিতে সংসদ জরুরি। এক্ষেত্রে জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলের অবস্থান আরেকটু ভিন্ন। তারা সংস্কারের জন্য যৌক্তিক সময় দিতে চায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন ও সংস্কার-এ দুই দাবির মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

ছাত্র-জনতার ১ মাস ৪ দিনের আন্দোলনে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। তিনদিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু। তখন পুরো দেশ ছিল অগোছাল ও বিচ্ছিন্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যত দ্রুত হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে, সেটি গ্রহণ করার প্রস্তুতি কারও ছিল না। ফলে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ নিয়ে পথচলা শুরু করে এ সরকার। 

সাদা চোখে ১০০ দিনে তেমন বড় অর্জন হয়তো নেই। তবে সম্ভাবনা বিশাল। আশার কথা হলো-ইতোমধ্যে কিছুটা গুছিয়ে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের ১২টি বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৫৬টি। এর মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৯টি। এছাড়া দুটি নীতিমালা ও ৮টি চুক্তি অনুমোদন এবং ১০টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

গত বুধবার একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সংস্কার ও নির্বাচন একই সঙ্গে দুটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে গণতান্ত্রিক ভোটের দিকে এগিয়ে নেবে। তবে নির্বাচন কবে হবে, তা সংস্কারের ওপর নির্ভর করবে।তার মতে, যত দ্রুত প্রস্তুত হব, তত দ্রুতই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যারা দ্রুত নির্বাচনের দাবি করছেন, তাদের পক্ষ থেকে এ দাবির যৌক্তিক ভিত্তি আছে। অবশ্যই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যদিকে ছাত্র-জনতার গড়া আন্দোলনের মূল অভীষ্ট ছিল কর্তৃত্ববাদের পতন এবং রাষ্ট্র সংস্কার। 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কর্তৃত্ববাদের পতন হয়েছে। কিন্তু এর মানে এ নয়-আন্দোলনের অন্যতম মূল স্লোগান, বাস্তবভিত্তিক দাবি এবং মানুষের প্রত্যাশা রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন হবে না। রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ন্যস্ত আছে। ফলে নির্বাচন ও সংস্কার-এ দুটির মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, সব সংস্কার কাজে অন্তর্বর্তী সরকারের হাত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ বাকি সংস্কার সম্পূর্ণ করবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আমরা ভাবছি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো রোডম্যাপ দেয়নি। আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ নির্বাচনব্যবস্থাকে উপযোগী করার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য সংস্কার প্রয়োজন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে আগে রাষ্ট্র সংস্কার জরুরি। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা যৌক্তিক সময় দিতে চান। তিনি বলেন, এ সময় দেওয়া মানে বছরের পর বছর যেমন নয়, আবার সংস্কার বাদ দিয়ে নির্বাচন হলেও তা সুষ্ঠু হবে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম এক অনুষ্ঠানে বলেন, সবকিছু সংস্কার না করে নির্বাচন হলে আগের জায়গায়ই থেকে যাব। তার মতে, শুধু নির্বাচনের জন্য জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ২ হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। অর্ধলক্ষ মানুষ রক্ত দেয়নি আর অভ্যুত্থানও হয়নি। ১৬ বছরে দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমগুলোর জন্য মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। তাই পুরো দেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিল বলে অভ্যুত্থান ঘটেছিল, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছিলেন। 

তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এই দেশের ছাত্র-জনতার সরকার। সাধারণ মানুষের সরকার। তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করতে হবে। একটি যৌক্তিক সময়ে সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন দিতে হবে।

টাইমলাইন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App