অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদেই বৈষম্য
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বৈষম্য চোখে পড়েছে। এ নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দেশের শীর্ষস্থানীয় এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ২৪ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের ১৩ জনের জন্মস্থান চট্টগ্রাম বিভাগে। একই অঞ্চল থেকে এতজন উপদেষ্টা থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নানা মহলে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেই এই বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমন বৈষম্য দূর করতে সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচিও করেছে।উপদেষ্টা পরিষদে ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ৭ জন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের একজন করে আছেন। তবে বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে নেই রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কেউ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা জেলা থেকে উপদেষ্টা হয়েছেন বেশি। অথচ তিন বিভাগ থেকে কেউ নেই। এতে সেসব অঞ্চল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।রাজনৈতিক সরকারের সময়েও মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগ ও অঞ্চল বিবেচনা করে নিয়োগ দেয়া হয়। যাতে সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব থাকে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষেত্রে অঞ্চল বিবেচনায় বড় বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে যুক্ত হওয়া ১৩ উপদেষ্টার দপ্তর-উপ দপ্তরেও তাদের নিজস্ব এলাকার ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উপদেষ্টা পরিষদে বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, শুধু ১টা বিভাগ থেকে ১৩ জন উপদেষ্টা; অথচ উত্তরবঙ্গের রংপুর, রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলা থেকে কোনো উপদেষ্টা নাই! তার উপর খুনি হাসিনার তেলবাজরাও উপদেষ্টা হচ্ছে!
সম্প্রতি তিন উপদেষ্টার শপথ নেয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অঞ্চল বৈষম্য নিরসন দাবি করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. নূরুল আমীন বেপারী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় কথা উঠেছে সরকার এক বিভাগ থেকেই বেশি উপদেষ্টা নিয়েছে। এ কারণে সরকার বেশি সফলতা পাচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে।
