×

জাতীয়

গার্মেন্টস খাত এখনো নাজুক

Icon

মরিয়ম সেঁজুতি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গার্মেন্টস খাত এখনো নাজুক

ছবি: সংগৃহীত

নানা উদ্যোগেও অস্থিরতা থামছে না পোশাক খাতে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে গতকাল সোমবারও আশুলিয়ার অন্তত ৭৯টি কারখানার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিল্পাঞ্চলে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। এছাড়া শিল্পাঞ্চলে যৌথবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। যদিও পোশাক খাতের অস্থিরতা দ্রুত কেটে যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক শিল্প কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে দুই শতাধিক কারখানায় উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ফলে শিল্পের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)।

জাতীয় রাজস্ব বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান অনস্বীকার্য। বাস্তবতা হলো, বিপুল সম্ভাবনাময় এ খাত ঘিরে প্রায়ই অসন্তোষের বিষয়টি সামনে আসে। ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর থেকে আবার নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ দানা বাঁধে। তবে এবারের অসন্তোষের নির্ধারিত কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের পক্ষ থেকেও নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অস্থিরতা দূর হয়নি। এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা রপ্তানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানতে চাইলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ভোরের কাগজকে বলেন, আগের চেইন অব কমান্ড এখন নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এবারের বিশৃঙ্খলা থামাতে পারেনি। ফলে বিষয়টা ছড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, আগে এই ধরনের সমস্যা হলে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে প্রয়োজনে স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হতো। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ মানুষগুলোও বদলেছে। ফলে ‘শ্রমিক নেতারা বুঝে উঠতে পারছে না’ কীভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে। রুবেল বলেন, প্রথম থেকেই এবারের আন্দোলন আমাদের কাছে গতানুগতিক আন্দোলন মনে হয়নি। মূলত, গতানুগতিক বিষয়গুলো নিয়ে আন্দোলন করতে আমরা দেখে আসছি। কিন্তু এবারে আন্দোলন শুরুই হয়েছে অন্যরকম দাবি-দাওয়ার আবদার নিয়ে। আমরা ধারণা করছি এখানে একধরনের উসকানি কাজ করছে। কোনো তৃতীয় শক্তি চাচ্ছে দেশে এবং দেশের বাইরে কীভাবে তারা লাভবান হবে। এর মধ্যে হয়তো দেশের কিছু শক্তি থাকতে পারে; যারা পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারলে তাদের সুবিধা হবে। আবার বাইরের শক্তিও হতে পারে- আমাদের দেশের পোশাক খাতে খারাপ হলে তাদের ভালো হবে।

রবিবার এক অনুষ্ঠানে এমসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক আহমেদ বলেন, নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিন পর থেকেই দেশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। আমরা জানতে পেরেছি, সারাদেশে শতাধিক কারখানায় হামলা হয়েছে। দুই শতাধিক কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে আর্থিক ক্ষতির এ হিসাব কোনো সুনির্দিষ্ট জরিপের মাধ্যমে করা হয়নি; বরং শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে একটি অনুমিত হিসাব দাঁড় করানো হয়েছে। প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এরচেয়ে বেশিও হতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিল্প খাতে যে অস্থিরতা চলছে। দ্রুততম সময়ে এটি কমানো না গেলে শিগগির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এজন্য শ্রমিক, মালিক, অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা যৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিভিন্ন ন্যায্য দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার পক্ষে। আমরা আশা করছি, শিল্প মালিকরা বিষয়টা বিবেচনা করবেন। সেই সঙ্গে যারা আন্দোলন করছেন, তারাও ধৈর্য সহকারে এসব বিষয় বিবেচনা করবেন।

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে গত কয়েক দিন নানা উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। কারখানার মালিক, শ্রমিক নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়েও হয় সমন্বয় সভা। পুরো আশুলিয়ায় নেয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরপরও আশুলিয়া শিল্প এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ থামানো যাচ্ছে না। গত শনিবার সেনাবাহিনী, শিল্পপুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, কারখানার মালিকদের সমন্বয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে রবিবার থেকে আশুলিয়ার সব কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এই ঘোষণায় বেশ কয়েকটি কারখানায় যোগ দিয়ে একপর্যায়ে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান শ্রমিকরা। কারখানার ভেতর তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এদিকে আশুলিয়ায় আলিফ ভিলেজ লিমিটেড গ্রুপের তিনটি তৈরি পোশাক কারখানায় ব্যাপক হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় আশুলিয়ার শিমুলতলীতে ইউফোরিয়া নামে একটি কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। কারখানার কয়েকজন কর্মীকে তারা মারধর করেন। সেখানে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর র?্যাবের একটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল চন্দ্র। শ্রমিক নেতারা বলছেন, অন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতরা শ্রমিক নয়। কারা আন্দোলন করছে, তাদের খুঁজে বের করা দরকার। মালিকপক্ষ বলছে, যৌথ বাহিনী বারবার আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। বারবার আশ্বাস দিলেও কেন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না জানতে চাইলে মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, স্থানীয় প্রশাসন বলতে এখন কিছুই নেই। আগে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশ ও শিল্প পুলিশকে কখনো আইনি, কখনো কৌশলগত ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে। এখন সেটা একেবারেই নেই। শ্রমিক নেতাদের কথা শুনছে না আন্দোলনকারীরা। রাজনৈতিক বৈরিতাও তৈরি হয়েছে। মোটামুটি এসব কারণেই পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।

পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকের চেয়ে পুরুষ বেশি নিয়োগ দিতে হবে- এমন সব দাবিসহ আরো কিছু দাবি নিয়ে ১০ দিনের বেশি সময় ধরে অসন্তোষ চলছে শিল্পাঞ্চলে। পোশাক কারখানায় পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। তবে গত কয়েক বছরে নারী শ্রমিকের হার অনেক কমেছে। গবেষণা সংস্থা ম্যাপড ইন বাংলাদেশের (এমআইবি) পরিসংখ্যান বলছে, পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের হার এখন ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একসময় এ হার প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল। বাংলাদেশ অ্যাপারেলস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে একটি মহল শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে বলেই এই অসন্তোষ। তবে কিছু কারখানার শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আছে। তৌহিদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গত সাড়ে ১৫ বছরে পোশাক খাতে মজুরি ইস্যু ছাড়া অন্য কোনো ইস্যুতে আন্দোলন হয়নি। এখন মজুরির বাইরে নানা ইস্যু নিয়ে আন্দোলন প্রমাণ করে, এর পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। আবার কোনো কোনো কারখানায় কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের কিছু সংশ্লিষ্ট বিষয় আছে। যেমন- শ্রমিকদের খাবার সরবরাহ, পরিবহন ও কারখানা থেকে পোশাক বর্জ্য বিক্রি করা। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন গোষ্ঠীগুলো প্রতিযোগিতা করছে। প্রায়ই প্রতিদ্ব›দ্বী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার মতে, গত সাড়ে ১৫ বছর একপক্ষ কারখানা থেকে ঝুট, কাটপিস, স্টকলটসহ নানা দিক থেকে সুবিধা ভোগ করেছে। এখন নতুন পক্ষ তৈরি হয়েছে। দুপক্ষের স্বার্থের দ্বন্দেও শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চলছে শ্রমিক আন্দোলনের নামে।

রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব

করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমের দেশগুলোয় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পরও বিদেশি ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বাংলাদেশ আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধের মতো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে তৈরি পোশাক কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে। এছাড়া স্থানীয় উৎপাদকরা পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম দেয়ার পাশাপাশি তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন ও রানা প্লাজা কারখানা ধসের মতো শিল্প দুর্ঘটনার পর কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা মানগুলো মেনে চলছে। পণ্যের বহুমুখীকরণ ও মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোয় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। তবে এ শিল্পে চলমান অস্থিরতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা নিশ্চিতভাবেই রপ্তানিতে প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউরোপের এক পোশাক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায়ই কারখানাগুলোয় কার্যাদেশ চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ সফর করেন উল্লেখ করে একটি বিদেশি পোশাক কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী গ্রীষ্মের জন্য ইতোমধ্যে কার্যাদেশ দিয়েছি। এখন আমরা আগামী শীতের জন্য পরিকল্পনা করছি। তাই বাংলাদেশ ভ্রমণ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই কর্মকর্তা জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান কোনো কার্যাদেশ বাতিল না করলেও মূল্য সংযোজিত পোশাক পণ্যের অনেক কার্যাদেশ অনেক বিদেশি ক্রেতা বাতিল বা স্থগিত করেছেন। যখনই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভ্রমণ বাতিল হয় তখনই তারা পোশাক কেনার বিষয়ে ‘প্ল্যান বি’ করেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

আরো পড়ুন: আড়িয়াল বিলে ড্রেজার প্রবেশ বন্ধের নির্দেশনা

এনভয় লিগ্যাসি অ্যান্ড শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই অস্থিরতা পোশাক রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে। উৎপাদনে দেরি হওয়ায় অনেক উৎপাদককে ছাড় দিতে হবে। ব্যয়বহুল এয়ার শিপমেন্টের পাশাপাশি ওয়ার্ক অর্ডার চলে যাওয়ার চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে। তিনি আরো বলেন, বিদেশি ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো যদি সময়মতো পণ্য হাতে না পায় তাহলে তারা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ছাড় ও বিমানে পণ্য পাঠানোর দাবি করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দিল্লিতে গঙ্গা চুক্তি ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনাই হয়নি

দিল্লিতে গঙ্গা চুক্তি ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনাই হয়নি

লেবাননে হামলা ও শান্তিরক্ষী হত্যার নিন্দা জানিয়েছে ৮০টি রাষ্ট্র

লেবাননে হামলা ও শান্তিরক্ষী হত্যার নিন্দা জানিয়েছে ৮০টি রাষ্ট্র

হরমুজে টোল আদায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও চীনা মুদ্রা নিচ্ছে ইরান

হরমুজে টোল আদায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও চীনা মুদ্রা নিচ্ছে ইরান

লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনাতে রাশিয়ার দাবি

লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনাতে রাশিয়ার দাবি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App