×

জাতীয়

আবেদ আলীর ‘দোসর’ প্রিয়নাথেরও অঢেল সম্পদের সন্ধান

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৫:২২ পিএম

আবেদ আলীর ‘দোসর’ প্রিয়নাথেরও অঢেল সম্পদের সন্ধান

প্রিয়নাথ রায়

প্রিয়নাথ রায়। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। বিসিএসসহ নানা পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপ্রত্র ফাঁসকাণ্ডের নাটের গুরু পিএসসির গাড়িচালক আবেদ আলীর অন্যতম ‘দোসর’ তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ে এলাকায় তেমন সম্পদ না থাকলেও দিনাজপুর ও ঢাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রিয়নাথের আছে বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পত্তি। তিনি পরীক্ষায় পাস নিশ্চিত করা ও চাকরির দেয়ার নামে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা নিতেন। তিনি এখন পর্যন্ত ৪৫০ জনকে প্রশ্নপত্র দিয়ে চাকরি জুটিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন।  

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের রাইতু রায় ও রাজবালা দম্পতির সন্তান প্রিয়নাথ রায়। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা প্রিয়নাথ এসএসসি পরীক্ষার সময় হারান বাবাকে। এইচএসসির পরে বন বিভাগে চাকরি নেন তিনি। ডিগ্রি পাস করে সেনাবাহিনীর অডিটর পদে যোগ দেন। এরপর তিনি জড়িয়ে পড়েন চাকরি প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে। অপকর্মে ছেলের জড়িয়ে পড়ায় তার মা দায়ী করছেন পুত্রবধূকে। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। বউয়ের বুদ্ধিতে সে চলে। প্রিয়নাথ ও তার অন্যান্য ভাইবোন সবাই বাইরে থাকে। গ্রামের তাদের মা ছাড়া কেউ থাকে না। বিভিন্ন সময় তারা জেনেছেন, প্রিয়নাথ চাকরি দেয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। পুলিশও তাদের বাড়ি এসেছিল কয়েকবার। দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়নাথ বাড়ি আসেন না।

সোমবার (৮ জুলাই) সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে এক অভিযানে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একইসঙ্গে পিএসসির দুই উপপরিচালক, একজন সহকারী পরিচালকসহ ১৭ জন গ্রেপ্তার হন। তাদের মধ্যে একজন প্রিয়নাথ রায়।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, চাকরি দেয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় প্রিয়নাথের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েক বছর ধরে তিনি বাড়িতে না আসায় এখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার সম্ভব হচ্ছিল না। সোমবার (৮ জুলাই) এক অভিযানে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আলোচিত পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে আবেদ আলী জানিয়েছে, ঢাকায় তিনি একটি ছয়তলা বাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট ও একটি গাড়ির মালিক। গ্রামে আছে তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি। সিআইডির কর্মকর্তাদের ধারণা আবেদ আলীর সম্পদ এর চেয়ে বেশি রয়েছে।

আরেক অভিযুক্ত উপপরিচালক মো. আবু জাফর। গ্রামের বাড়ি, পটুয়াখালির গলাচিপার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন ৪-৫ বছর আগে ৬০ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এই আবু জাফর বেশ কয়েক বছর ধরে তার স্ত্রী জ্যোতির নামে মালিবাগের চৌধুরী পাড়ায় একটি কোচিং সেন্টার করেছেন। যেখানে সরকারি চাকরি প্রত্যাশীরা কোচিং করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, কোচিং সেন্টারের আড়ালে প্রশ্নপত্র কেনা বেচার কাজ করতেন জাফর।

টাইমলাইন: বিসিএসের প্রশ্নফাঁস কাণ্ড

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App