×

জাতীয়

কোটা সমস্যার সমাধান কি রাজনৈতিকভাবে সম্ভব?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৭ পিএম

কোটা সমস্যার সমাধান কি রাজনৈতিকভাবে সম্ভব?

রাজধানীর শাহবাগে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা|| ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার দাবি করছে, এ সমস্যার সমাধানে তারা আদালতের উপরই নির্ভর করছে। গত দুইদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুরো ঢাকা শহর কার্যত অচল ছিল।

সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, আদালতে বিচারাধীন থাকায় সেখানেই কোটার বিষয়টি সমাধান হতে হবে। বিচারাধীন বিষয়ে সরকার কথা বলবে না। এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান আদৌ সম্ভব কিনা?

যা বলছে শিক্ষার্থীরা

২০১৮ সালে কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশ করার দাবিতে আন্দোলনে নামে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এক পর্যায়ে সরকার ওই বছর নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ই জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা। হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে আপিল বিভাগে। সেই আবেদন গত ৪ঠা জুলাই শুনানির জন্য আসলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

এরই মধ্যে গত পহেলা জুলাই থেকে কোটা বাতিলে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশব্যাপী। বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

‘বাংলা ব্লকেড’ নামে গত দুইদিন ধরে শিক্ষার্থীরা যে কর্মসূচি পালন করেছে তাতে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এখন এক দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে। গত দুই দিনের বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আবারো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের দাবি আদালতের কাছে নয় বরং সরকারের কাছে তাদের এই এক দফা দাবি।

শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এই এক দফা মূলত সরকারের এখতিয়ারের বিষয়। সকল গ্রেডের কোটায় যৌক্তিক সমাধান করে সংসদে বিল বা আইন পাস করে নতুন পরিপত্র জারি করতে পারে সরকার”।

এটি সম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ার উল্লেখ করে মি. ইসলাম বলেন, “সরকার তার দায় এড়াতে আদালতকে সামনে রাখছে বা ব্যবহার করছে”।

বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা রেখে সংসদে আইন পাস করে সরকার নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

একইসাথে এখনই কোন আইনি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানান মি. ইসলাম।

“ আদালতে যেহেতু রাষ্ট্রপক্ষই আপিল করেছে, এখানে আমাদের অংশগ্রহণের কোন প্রয়োজন নেই। যেহেতু এই দাবিটি সরকারের কাছে, সরকারই এখানে পদক্ষেপ নিতে পারে। আদালতের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে, আইনি প্রক্রিয়া তার মতো চলবে। আমরা আমাদের রাজপথের আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবো” বলেন মি. ইসলাম।

এদিকে, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেছেন দুইজন শিক্ষার্থী।

বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। এই শিক্ষার্থীরা আগের ওই আবেদনে পক্ষভুক্ত হতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে করা এই আবেদনের পরই এই আন্দোলনের আরেকজন সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ নিজেদের গ্রুপে এক খুদে বার্তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে কোন প্রতিনিধি হাইকোর্টে যায়নি বলে নিশ্চিত করেন।

একইসাথে নির্বাহী বিভাগের কাছে এক দফা দাবি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়া হয় ওই বার্তায়।

টাইমলাইন: কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App