×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

জাতীয়

শতক ছুঁয়েছে পেঁয়াজের দাম

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ০৮:৩২ এএম

শতক ছুঁয়েছে পেঁয়াজের দাম

ছবি : সংগৃহীত

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পণ্যটির দাম বাড়লেও ঈদের পর দাম কিছুটা কমেছিল। ফের পণ্যটির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। ইতোমধ্যেই রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের মূল্য শতকের ঘর ছুঁয়েছে। আদা ও রসুনের দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে আরেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আলুর দাম। সবজির বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। তবে চাহিদা কম থাকায় ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

গত বছর পণ্য দুটির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর এবছরও থামছে না দাম বৃদ্ধির প্রবণতা। ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন ক‘দিন পর পর।

কোরবানির ঈদের সপ্তাহখানেক আগে পেঁয়াজের দাম শতকের ঘরে ওঠেছিল। এরপর ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে নেমে আসে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। এতদিন এ দরেই বিক্রি হয়েছে। এখন আবারো শতক ছুঁয়েছে পেঁয়াজ।

শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, মহাখালী ও তেজগাঁওয়ের কলোনি বাজারে দেশি ভালো মানের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। দেশি হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে। তবে কারওয়ান বাজার বা যাত্রাবাড়ীর মতো বড় বাজারে উভয় ধরনের পেঁয়াজ এ দাম থেকে পাঁচ টাকা কমে কেনা যাচ্ছে। 

গত বছর এ সময় দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। আর আলুর দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হয়ে যাওয়ার পর আমদানির অনুমতি নিয়ে বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নানা আলোচনা পর্যালোচনা হয়েছে, কী কী করা যায়, তা নিয়ে নানামুখি উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আলুর খুচরা মূল্য এখন ৫৮ থেকে ৬০, কোথাও কোথাও ৬২ থেকে ৬৪ টাকা হলেও এ নিয়ে কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ছে না।

আরো পড়ুন : আইএমএফের হিসাবে এখন দেশের রিজার্ভ কত, জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক

খুচরা বিক্রেতারা জানান, ঈদে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছিল। ছুটি ও বৃষ্টির কারণে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়ায় দাম নতুন করে বেড়েছে। তবে, অস্বাভাবিক এই দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে যেমন অসন্তোষ দেখা গেছে, তেমন বিস্মিত হচ্ছেন কেউ কেউ। মাংসের সঙ্গে অতি দরকারি পণ্য হওয়ায় ঈদের আগের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারটা স্বাভাবিক লাগলেও ঈদ শেষে পেঁয়াজের দাম আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় বিরক্তিও প্রকাশ করছেন তারা।

কারওয়ান বাজারে খুচরায় ফরিদপুরের পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি আর পাবনার পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা আব্দুল জব্বার বলেন, এখন পেঁয়াজের দাম একটু চড়া। ভারতীয় যে পেঁয়াজ কয়েক জায়গায় পাইবেন, সেটাই ১০০ টাকা কেজি। তাইলে দেশি পেঁয়াজের দাম কমব কেমনে?

কারওয়ান বাজারে পাইকারি দোকান মেসার্স মাতৃভান্ডারে পাবনার পেঁয়াজ ৮৫ ও ফরিদপুরের পেঁয়াজ ৮২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই দোকানের বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম জানান, ঈদের সময় তিনি ৭৬ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করেছেন। পেঁয়াজের চাহিদা আছে বাজারে। সেই হিসেবে মাল খুব বেশি নাই। তাই দাম বাড়তি। শুধু ঢাকায় না, মোকামেও তো দাম বেশি।

ফরিদপুর থেকে কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ করেন আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, ফরিদপুরে মোকামে এখন পেঁয়াজ শুক্রবারের বাজার ৮০ টাকা কেজি। ঈদের পরে মণ প্রতি চারশত টাকার মতো বাড়ছে। আর কেজিতে আট থেকে ১০ টাকা বাড়ছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “মালের ঘাটতি আছে, আমদানি করার এলসির দাম বেশি। এখন ভারতীয় যে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে ডলারের রেট বেশি হওয়ায় এই পেঁয়াজের দাম বেশি পড়তেছে। বর্ডারেই দাম ৯০ টাকা কেজি হচ্ছে। আর খুচরায় ১০০ এর উপরে।”

সবজির বাজারও গরম

মানুষের মাংসের প্রতি চাহিদা কমে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিতে চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর চাহিদা বাড়ায় চড়তে শুরু করেছে দাম।

তেজকুনিপাড়া কাঁচাবাজারে চিচিঙ্গা ৪০, পটল ও করলা ৫০ থেকে ৬০, কাকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপের ৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ৯০, বরবটি ১০০ টাকা টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

লাউ আকার ভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে এই বাজারে। কাঁচা মরিচের দাম দেখা গেছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের খুচরাতেও দাম কিছুটা কম। এই বাজারে করলা ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, পেঁপে, বরবটি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কমেছে যেসব পণ্যের

ঈদের পর বাজারে আদা ও রসুনের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় দামও একটু কমতির দিকে। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। ভালোমানের আদার কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। দেশি ও ভারতীয় রসুন কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তেজকুনিপাড়া বাজারে ক্রেতাদের দেশি ও ভারতীয় রসুন কিনতে হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৬০ টাকা কেজি দরে, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে, সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে। ডিমের দাম ডজনে কমেছে অন্তত ১০ টাকা। লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা ডজন হিসেবে। আর হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App