×

জাতীয়

‘জাতীয় নির্বাচন ধাপে ধাপে হলে ভোট আয়োজন সহজ হবে’

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ০৫:১৬ পিএম

‘জাতীয় নির্বাচন ধাপে ধাপে হলে ভোট আয়োজন সহজ হবে’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন ধাপে ধাপে হলে ভোট আয়োজন সহজ হবে। ধাপে ধাপে নির্বাচন ও ভোটের হারের ভিত্তিতে আসন বিন্যাসে নির্বাচন কমিশন সম্মত। এতে ভোট আয়োজন সহজ হবে। সংস্কারের মাধ্যমে যদি পদ্ধতিগত উন্নয়ন করা যায় তাহলে ভোটে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে। রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নির্বাচন স্ট্যাবলও হবে না।

রবিবার (২ জুন) দুপুরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। এদিন টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে বৈঠক করেন। এসসময় হলফনামার তথ্য প্রকাশ, হলফনামায় অসত্য তথ্য দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করে প্রতিনিধি দল।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সামর্থ্য সীমিত। যতটুকু করা সম্ভব আমরা চেষ্টা করি। আমাদের অনন্ত সক্ষমতা আছে, তা মোটেই না। নির্বাচন কমিশন একা কখনোই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না। যদি না রাষ্ট্র ও সরকারের পলিটিক্যাল উইল এর স্বপক্ষে থাকে। রাষ্ট্র ও সরকারের পলিটিক্যাল স্বপক্ষে থাকলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবে।

রাজনৈতিক সংলাপের ওপর জোর দিয়ে সিইসি বলেন, দলগুলোর মধ্যে আমি এখনো কোনো আলাপ-আলোচনা দেখছি না। তাদের মধ্যে যে বৈরিতা, সেটা অত্যন্ত প্রকট। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এই প্রকট বৈরিতা থাকলে সামনে এগোনো খুব কঠিন হবে। এই বৈরিতা পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। টিআইবির মতো সিভিল সোসাইটিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামর্থ্য সীমিত। যতটুকু করা সম্ভব আমরা চেষ্টা করি। আমাদের অনন্ত সক্ষমতা আছে, তা মোটেই না। নির্বাচন কমিশন একা কখনোই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না। যদি না রাষ্ট্র ও সরকারের পলিটিক্যাল উইল এর স্বপক্ষে থাকে। রাষ্ট্র ও সরকারের পলিটিক্যাল স্বপক্ষে থাকলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবে।

টিআইবিকে কমিশন থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল জানিয়ে কাজী হাবিবুল্লাহ বলেন, আমরাই তাদের আমন্ত্রণ করেছিলাম। তারা বলেছে, আমরা তথ্যটা যেন দ্রুত তুলি। কিছু ক্ষেত্রে তারা বলেছে, আমরা দ্রুত তথ্য দিই না। আবার কিছু ক্ষেত্রে বলেছে আমরা ত্বরিতগতিতে তথ্য দিয়েছি, তারা এর প্রশংসা করেছে। 

তারা বলেছে, আমরা কিছু ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছি না। আমাদের কমিশনার আলমগীর সাহেব বলেছেন, আমাদের আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে যে কতটুকু করতে পারবো বা পারবো না। আমাদের হলফনামা দেয়ার কথা বলা হয়েছে, হলফনামা ওয়েবসাইটে তুলে দিয়েছি। কিন্তু প্রার্থীর সম্পত্তি বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কোনো দায়িত্ব আমাদের দেয়া হয়নি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে হাবিবুল আউয়াল বলেন, টিআইবি মনে করে নির্বাচন সুন্দর ও ফেয়ার হয়েছে কিন্তু একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক চেতনা থেকে যে ইনক্লুসিভ নির্বাচন, সেটা হয়নি। আমরা বলেছি, দেশের যে সমস্যা, তা অনেকটা রাজনৈতিক। এসব সমস্যা নিরসন না হলে নির্বাচনব্যবস্থা আরো স্টেবল হবে না। রাজনৈতিক বোঝাপড়াটা হয়ে গেলে নির্বাচন আরো সুন্দর ও সুষ্ঠু হতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক সুশাসনকে প্রধান্য দিয়ে কয়েকটি নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। সংসদের পুরো মেয়াদের একটি বিশ্লেষণ আমরা সম্প্রতি প্রকাশ করেছি।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে হলফনামার তথ্য এবং আয়করের তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ হয়েছিল, সে কথা তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নজরদারি সংস্থাগুলোর জন্য জবাবদিহি নিশ্চিতের সুবিধা করে দেয়া হয়েছে।  ইসি এবং টিআইবি ‘একে অপরের সহযোগী’ হিসেবে নিজেদের বিবেচনা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণ নির্বাচন চায়, এটা আমরাও চাই। আমাদের কাজের পদ্ধতি এবং ক্ষমতার পার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই।

তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে, তবে তা ক্ষমতাসীন দলের নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে৷ এ বিষয়ে ইসিও একমত পোষণ করেছে। তারা জানিয়েছে যতটুকু সক্ষমতা ছিল সে অনুযায়ী কাজ করেছে।

আরো পড়ুন:


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App