×

জাতীয়

নৌযান শ্রমিকদের ১১ দফা বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম

নৌযান শ্রমিকদের ১১ দফা বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, নৌযান মালিক সমিতি এবং সরকারের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ চলছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, আজকের সভায় নৌযান শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে ভালো আলোচনা হয়েছে। অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। মালিক, শ্রমিক, সরকার একত্রে আলোচনা করলে অনেক কিছুই সমাধান হয়। এক বৈঠকে সমাধান না হলে আরো বৈঠকে সমাধান হয়। ফলপ্রসু আলোচনা না হলে তখন শ্রমিকরা সংগ্রামে যেতে পারেন। 

সভায় জানানো হয়, নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নাবিকদের নিয়োগপত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য নৌযান মালিকদের চিঠি পত্র দেয়া হয়েছে। সব মালিক সমিতিকে এক প্লাটফর্মে এনে এককেন্দ্রিক সিরিয়াল মেইনটেইন করে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সব বন্দরে পণ্য পরিবহনে সমতা বিধানের লক্ষে মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। মালিক সমিতিসমূহের সঙ্গে গেজেট বহির্ভূত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিভূক্ত অমীমাংসিত দাবিসমূহ পুনঃনির্ধারণ করে চুক্তি সম্পাদন করা মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের বিষয়ে মালিক সমিতি ব্যবস্থা নেবে। চট্টগ্রাম বন্দরে নিরাপদে জাহাজ রাখার জন্য শঙ্খ নদীকে পোতাশ্রয়ের উপযোগী করা, অভ্যন্তরীণ নদীর নাব্যতা রক্ষা, নৌপথ, নদী ও সব নদী বন্দরে পর্যাপ্ত সংখ্যক মার্কা-বয়া-বাতি স্থাপন, চ্যানেলে জাল পাতা বন্ধ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাইলট সরবরাহ বিআইডব্লিউটিএ নিশ্চিত করবে। চট্টগ্রামের চরপাড়া-জালিয়াপাড়া পর্যন্ত নাবিকদের নিরাপদে উঠা নামার জন্য কমপক্ষে ৫টি ইজারামুক্ত ঘাট ও মেরিন ড্রাইভওয়ের উপর চরপাড়া ও জালিয়াপাড়া এলাকায় দুটি ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছে। 

আরো পড়ুন: নাবিকদের 'অন এরাইভাল ভিসা' জটিলতা সমাধানে আশাবাদী আইএমও মহাসচিব

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে এ বিষয়টি আলোচনার লক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী নৌযানে মাস্টার-ড্রাইভার নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইনল্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ার প্রযোজ্য জাহাজগুলোতে ইনল্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

সভায় আরো জানানো হয়, নৌযানের মাস্টার-ড্রাইভারের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পূর্বে ১ জুলাই থেকে চক্ষু পরীক্ষা শুরু হবে। বালুবাহী নৌযানে কর্মরত শ্রমিকদের উপর পুলিশের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে চিঠি দেয়া হয়েছে। অভিযান-১০ লঞ্চের চারজন মাস্টার-ড্রাইভারের সনদ বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। নৌদুর্ঘটনার সব মামলা নৌআদালতের এখতিয়ারভূক্ত করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ এবং বাংলাদেশ নৌ পুলিশকে চিঠি দেয়া হয়েছে।  

সামুদ্রিক মৎস্য শিকারী জাহাজ শ্রমিকদের গেজেটের বাস্তবায়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, কালোবাজারি, জাহাজ ছিনতাই বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে জানানো হয়েছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ সালেহ আহমেদ, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার মো. মনজুরুল কবীর, পররাষ্ট্র, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল, বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির আব্দুস সালাম খান, বাংলাদেশ ওয়েল ট্যাঙ্কার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশের লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফসার হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App