×

ময়মনসিংহ

দেওয়ানগঞ্জে নদী ভাঙনে বিলীন ফসলিজমি বসতবাড়ি ও সড়ক

Icon

বিল্লাল হোসেন মন্ডল, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) থেকে

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

দেওয়ানগঞ্জে নদী ভাঙনে বিলীন ফসলিজমি বসতবাড়ি  ও সড়ক

ছবি: কাগজ প্রতিবেদক

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদী ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গ্রাম গ্রাস করছে। ধান, মরিচ, বাদাম, সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের কয়েকশ হেক্টর জমি ও বসত বাড়ী ও খোলা বাড়ী দেওয়ানগঞ্জ প্রধান সড়ক নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। হুমকীর মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি গ্রাম। 

সরেজমিনে দেখা যায়, দিশাহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রাথমিক  বিদ্যালয়, বাহাদুরাবাদ নৌ থান সহ মাদ্রাসা, মসজিদ, হাট-বাজার, ব্রিজ ও কয়েক হাজার বসতভিটা। যেভাবে ভাবে যমুনা ভাঙন দেখা দিয়েছে তাতে হারিয়ে যাচ্ছে  চিকাজানি ইউনিয়নের মানচিত্র। হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার চিকাজানি  ইউনিয়নের যমুনা নদী গত ৩০ বছরে ইউনিয়নটির ১০ কিলোমিটারের বেশি ভূখণ্ড ভেঙে ফেলেছে। ভাঙনের খেলায় থেমে নেই ব্রহ্মপুত্র। ৩৪.৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ইউনিয়নটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড এখন নদীতে। স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকার ফলেই পুরো ইউনিয়নটি যমুনায় বিলীন হতে যাচ্ছে। 

ইউনিয়নবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটির হুদার মোড় এলাকা অংশবিশেষ যমুনায় চলে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমির মধ্য দিয়ে চলাচল করতো কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহ  নৌ থানা পুলিশ প্রশাসন। নদী ভাঙ্গন এলাকার মাসুদ আলম, আবু হানিফ, আতিকুল ইসলাম জানান, গত ত্রিশ বছরে যমুনা নদীতে বিলিন হয়েছে   খোলাবাড়ি, চর ডাকাতিয়া, চর মাগুরিহাট পশ্চিম পাড়া, চর মাগুরি হাট আদর্শ গ্রাম। ২০ একর জমিতে গড়ে উঠেছিল আদর্শগ্রামটি, তিন থোবা, পাগলার চর, খাটিয়ামাড়ি, হুদার মোড় এলাকা।

বর্তমানে ভাঙন হুমকিতে আছে ইউনিয়নের কেশোর মোড়, চর ডাকাতিয়া পাড়া, মন্ডল বাজার, বাহাদুরাবাদ নৌ থানা, খানপাড়া, বড়খাল, মাঝিপাড়া, পলাশপুর গ্রামগুলো। এ ছাড়া হুমকিতে আছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হরিণধরা বাঁধের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ। আরও আছে দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি চর মাগুরিহাট কমিউনিটি ক্লিনিক, চরমাগুরিহাট সড়কের উপর নির্মিত ২০০ মিটার একটি ব্রিজ।

বসত ভিটা ভাঙনের দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন রুবিনা খাতুন। তার ভাষ্য, ফসলি জমি সব নদীতে গেছে। নদী ঘরের কোনায় এসেছে। যেকোনো সময় ভিটে ভেঙে নিয়ে যাবে। এরপর কোথায় গিয়ে বসবাস করবো দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাটছে। স্থানীয়রা  জানান, এক সময় শুধু বর্ষা মৌসুমেই নদীভাঙন ছিল। এখন সারা বছর নদীভাঙছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী নদী শাসন ব্যাবস্থা না করা হলে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই চিকাজানি ইউনিয়ন নদী গর্ভে  বিলীন হয়ে যাবে।

চিকাজানী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম আক্কাস বলেন  ইউনিয়নবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটির প্রায় এক হাজার ফুট সড়ক নদী গর্ভে বিলিন হওওয়া ফলে জনসাধারন ও পুলিশ প্রশাসনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ  পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও  সড়কটি ভাঙার কারণে পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হাসান জানান,  যমুনা নদীর ভাঙন বিষয়ে জেলায় অবহতিকরণ করা হয়েছে। নদীর পাড়ের গভীরতা ২০-২৫ মিটারের বেশি। ভাঙন রোধ বড়োসড়ো প্রকল্পের প্রয়োজন। অস্থায়ী ভাঙন রোধ করতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা নকিবুজ্জামান খান জানান, চিকাজানি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অস্থায়ী ভাবে রোধ করতে ৮০০ মিটার জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের চাহিদা দেওয়া হয়েছে । অনুমোদন  হলে কাজ শুরু করা হবে।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশের হারের পেছনে যে কারণ দেখছেন লিটন

বাংলাদেশের হারের পেছনে যে কারণ দেখছেন লিটন

ফের রিমান্ডে আফজাল নাছের

মাহমুদুল হত্যা ফের রিমান্ডে আফজাল নাছের

জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

চার মাসে বজ্রপাতে ৭২ মৃত্যু

চার মাসে বজ্রপাতে ৭২ মৃত্যু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App