×

গান

সংগীত জগতের স্বর্ণালী অধ্যায়ের নক্ষত্রের অবসান

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

সংগীত জগতের স্বর্ণালী অধ্যায়ের নক্ষত্রের অবসান

ফাইল ছবি

সংগীত জগতের স্বর্ণালী অধ্যায়ের শেষ নক্ষত্রের অবসান ঘটলো। স্বর্ণযুগের সমাপ্তি ঘটিয়ে চিরঘুমের দেশে পাড়ি জমালেন অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত উপমহাদেশের কিন্নরকণ্ঠী ও সুর সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে।

তাঁর প্রয়াণ ঘটলো গতকাল রোববার দুপুরে। শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। আশা ভোসলের বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

এই বয়সেও আশা ভোসলে হেঁটেচলে বেড়াতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন। গানও গাইতেন। শনিবার সন্ধ্যায় শারীরিক অস্বস্তি বোধ করার কথা সর্বক্ষণের গৃহকর্মীকে জানান। তখনই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রের জানা যায়, সন্ধ্যায়ই তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সমদানি জানান, বর্ষীয়ান শিল্পীর একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে গিয়েছিল।

হাসপাতালে ভর্তির পর আশার নাতনি জনাই ভোসলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ওঁর ফুসফুসেও সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। গতকাল দুপুরে আশার পুত্র আনন্দ ভোসলে গণমাধ্যমকে মায়ের মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে বলেন, সোমবার বিকেল চারটায় শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এর আগে বেলা ১১টা থেকে মুম্বাইয়ের লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডের বাসভবনে গিয়ে সবাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।

আশা ভোসলের বড় বোন লতা মঙ্গেশকরও চার বছর আগে ২০২২ সালে এই হাসপাতালে মারা গিয়েছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। লতা ভূষিত হয়েছিলেন ‘ভারতরত্ন’ সম্মানে, আশা পেয়েছেন ‘পদ্মবিভূষণ’ ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। আশার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতা-উত্তর ভারতীয় সংগীতের স্বর্ণযুগের শেষ নক্ষত্রের অবসান ঘটল।

ভারতীয় সংগীত জগতের অনন্য এই প্রতিভা আট দশকেরও বেশি সময় অসংখ্য ভাষায় গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, গজল থেকে আধুনিক বিভিন্ন ধারায় তার সমান দক্ষতা তাকে বিশেষ মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। কিংবদন্তি এই সংগীতজ্ঞের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীরা। বিশেষ করে ভারতের সংগীতাঙ্গনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গন, বলিউড, টলিউড এমনকি ক্রীড়াঙ্গনেও বইছে মাতম। এই বিয়োগব্যথা স্পর্শ করেছে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনেও। দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা থেকে শুরু করে সাবিনা ইয়াসমিন, কনকচাঁপা, বেবী নাজনীনের মতো নন্দিত সিনিয়র তারকারাও শোক প্রকাশের পাশাপাশি স্মৃতিচারণও করেছেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীসহ আশা ভোঁসলের সহকর্মী, সহশিল্পী, সুরকার ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরাও তাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

প্রখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী অনুরাধা পাড়োয়াল বলেন, ‘খুবই কষ্টের একটা দিন। একটা যুগের অবসান। ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না কী বলব। ভীষণ ভালো শিল্পী ছিলেন, ভালো মানুষ ছিলেন। জীবনের শেষ শ্বাস পর্যন্ত গান গেয়ে গেলেন। তার সঙ্গে যখনই কোথাও দেখা হতো, অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে কথা বলতেন। ভালোবাসতেন।’ আশার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় মানুষ  ঊষা উত্থুপ এই খবর পাওয়ার পর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আশা জি চলে গেছেন, এটা ভাবতেই পারছি না। আমার সারা জীবনের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে ওনার সঙ্গে। উনি আমার জীবনেরই অংশ। একদিনও যায় না যেদিন আমি ওনার কথা ভাবি না। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আজ নিভে গেল। তিনি শুধু একজন মহান গায়িকাই ছিলেন না, ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ। তার গান এবং তার ব্যক্তিত্ব আমাদের সবার কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল দিদি আর বোনের মতো। তার এই চলে যাওয়া সংগীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি যেখানেই থাকুন, শান্তিতে থাকুন।’

অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা বলেন, ‘ভাবতেই পারছি না আশাদি আর নেই। এই তো সেদিন বিদেশ থেকে অনুষ্ঠান করে এলেন। জানি বয়সটা বড় ফ্যাক্টর। তবুও... লতাদির চলে যাওয়ার পর আশাদি-ই ছিলেন আমাদের সবার মাথার ওপর একটা বড় ভরসা। আজ মনে হচ্ছে মাথা থেকে ছাতাটা সরে গেল।’

অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রহমান বলেন, ‘আশা ভোঁসলে ছিলেন ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিভা। তার কণ্ঠ ছিল অসাধারণভাবে বহুমুখী, এবং তিনি ভারতীয় সংগীতকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।’ নতুন প্রজন্মের গায়িকা হার্ষদীপ কৌর তাকে সংগীতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, ‘ভালোবাসার কণ্ঠ আর আমাদের মধ্যে নেই... তিনি ছিলেন সংগীতের একটি প্রতিষ্ঠান। গায়িকা আলকা ইয়াগনিক নারী প্লে-ব্যাক গায়িকাদের জন্য তার অবদান তুলে ধরে বলেন, তিনি নারী প্লে-ব্যাক শিল্পীদের জন্য স্বাধীনতার প্রতীক ছিলেন।’ গায়ক উদিত নারায়ণ তাকে প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে স্মরণ করেন। সুরকার ও গায়ক বিশাল দাদলানি তার মৃত্যুতে একে ‘যুগের অবসান’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার মতো কণ্ঠ আর কখনো পাওয়া যাবে না।

এদিকে, বাংলাদেশের কিংবদন্তি রুনা লায়লার কেবল সহকর্মীই নন, আশা ভোঁসলে ছিলেন তার কাছে বড় দিদি, মেন্টর এবং পরম বন্ধু। তাই প্রিয় ‘আশাদি’র প্রয়াণে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন রুনা। জানালেন তাদের সেই না বলা বন্ধুত্বের গল্প। রুনা লায়লা জানান, শৈশব থেকেই তিনি আশা ভোঁসলের গানের ভক্ত ছিলেন। তার কথায়, ‘ছোটবেলায় আশাদির গান শুনতাম আর তার গলার সেই সূক্ষ্ম কারুকাজগুলো নকল করার চেষ্টা করতাম। তিনি আমার কাছে এক অমূল্য রত্ন  ছিলেন।’ পরে রিয়েলিটি শো ‘সুর ক্ষেত্র’-এর বিচারক থাকাকালে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। রুনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘শুটিংয়ের ফাঁকে আমরা এত গল্প আর হাসাহাসি করতাম যে প্রোডিউসার আমাদের সিট আলাদা করে দিয়েছিলেন যাতে কাজে ব্যাঘাত না ঘটে। কিন্তু আশাদি জেদ ধরেছিলেন আমি তার পাশের চেয়ারেই বসব। আর আশাদিকে ‘না’ বলার সাধ্য ছিল না।’

আশার জন্ম ১৯৩৩ সালে তৎকালীন বম্বে প্রেসিডেন্সির সাংলি রাজ্যে (পরে মহারাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত)। বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন মারাঠি মঞ্চাভিনেতা ও শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। আশা পিতৃহীন হন ৯ বছর বয়সে। বড় বোন লতার বয়স তখন ১৩। মঙ্গেশকর পরিবার তখন মুম্বাই চলে আসে এবং তখন থেকেই দুই বোনের চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মারাঠি সিনেমা মাঝা বল-এ আশার প্রথম প্লেব্যাক। হিন্দি সিনেমায় প্রথম গান ‘সাওন আয়া’ তার পাঁচ বছর পর, ১৯৪৮ সালে, চুনরিয়া সিনেমায়। সেই থেকে আমৃত্যু লতা-আশা ও সংগীত সমার্থক হয়ে থেকেছে।

বড় বোন লতার মতো আশার সংগীতজীবনের সফর মোটেই কুসুমকোমল ছিল না। হিন্দি সিনেমার নারী প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তখন দ্যুতি ছড়াচ্ছেন সামশাদ বেগম, গীতা দত্ত এবং লতা। বড় বাজেটের সিনেমা তাঁদেরই দখলে। আশা ডাক পেতেন তখন কম বাজেটের সিনেমায় কিংবা কাঙ্ক্ষিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে। ও পি নাইয়ারের জহুরি চোখ কিন্তু আশাকে চিনতে ভুল করেনি। ১৯৫২ সালে ও পি নাইয়ারের সুরে সঙ্গদিল সিনেমায় ‘ছম ছমাছম’ গানটি আশার সংগীতজীবনের এক উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। পরের বছর বিমল রায়ের পরিণীতা ও ’৫৪ সালে রাজ কাপুরের বুট পালিশ আশাকে প্রথম সারিতে জায়গা পাইয়ে দেয়। সামশাদ বেগম, গীতা দত্ত ও লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গেই উচ্চারিত হতে থাকে আশা ভোসলের নাম। তার আগে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাড়ির অমতে ও অসম্মতিতে তিনি বিয়ে করে ফেলেন গণপতরাও ভোসলেকে। গণপত তখন ছিলেন লতা মঙ্গেশকরের ব্যক্তিগত সচিব।

বিয়েটা বেশি দিন টেকেনি। সুখকরও ছিল না মোটেই। অবহেলিত ও নির্যাতিত আশা একটা সময় পুত্র-কন্যাকে নিয়ে গণপতরাওয়ের সংসার ছেড়ে মায়ের কাছে চলে আসেন। সাংসারিক জীবনের শান্তিহীনতা পুষিয়ে দেয় সংগীতজীবনের ক্রমাগত উত্থান। ও পি নাইয়ারের সুর ও আশার কণ্ঠ সৃষ্টি করতে থাকে একের পর এক অনন্য মূর্ছনা। সে এক অদ্ভুত রসায়ন। নাইয়ার তাঁর অধিকাংশ গানে ব্যবহার করতেন এমন এক ছন্দ, যা ছুটন্ত ঘোড়ার খুরের শব্দ মনে করিয়ে দিত। সেই সুরে আশার কণ্ঠ সৃষ্টি করে এক অশ্রুত মদিরতা ও মোহময় আবেশ। সুরকার খৈয়াম, রবিও বাড়িয়ে দেন তাঁদের হাত। সৃষ্টি হতে থাকে একের পর এক জনপ্রিয় গান, যা চিরকালীন হয়ে গেছে।

অবশেষে ষাটের দশকের মাঝামাঝি ঘটে যায় সেই অপূর্ব সংযোগ। শচীন দেববর্মনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ ঘটে রাহুল দেববর্মনের সঙ্গে। তাঁদের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন খুলে দেয় সংগীতজগতের আরেক নতুন দরজা। শুরু হয় হিন্দি গানের সুরের এক নব অধ্যায়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীতের মেলবন্ধন ঘটিয়ে রাহুল দেববর্মন একের পর এক যে অমূল্য সম্পদ সৃষ্টি করতে থাকেন, তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন আশা। অবসাদে দীর্ণ গীতা দত্তর নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া ও সত্তরের দশকে তাঁর অকালমৃত্যু নারী প্লেব্যাকের ক্ষেত্রে যে শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল, আশা তা ঝড়ের বেগে পূর্ণ করে দিলেন।

বয়স যত বেড়েছে, আশাও নিজেকে তত গড়েছেন নতুন করে। উপস্থাপন করেছেন নিজেকে আধুনিকতার সঙ্গে মানানসই হিসেবে। পশ্চিমি সাউন্ডস্কেপ ক্রমে অর্কেস্ট্রার যুগের অবসান ঘটাতে থাকে। দাক্ষিণাত্য থেকে মাথা তুলে বিশ্বজয়ে এগিয়ে এলেন আল্লারাখা রহমান। তাঁর সুরে আশা যোগ করলেন অন্য এক মাদকতা। ষাট পেরোনো কণ্ঠকে রঙ্গিলা সিনেমায় যেভাবে তিনি ভেঙেচুরে গড়লেন, যে উচ্চতায় নিজেকে স্থাপন করলেন, তা অবিশ্বাস্য। তাঁর মতো অমন ঝুঁকি বড় বোন লতাও কখনো নেননি। অত পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও নিজেকে টেনে আনেননি।

সংগীতজীবনের ৮৩ বছরে মোট ১৮টি ভাষায় ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন আশা। 

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, গান না গাইলে, গায়িকা না হলে জীবনে কী করতেন জানেন না। যদিও নিজেই সেই জিজ্ঞাসার নিরসন ঘটিয়ে বলেছিলেন, ‘হয়তো শেফ, মানে রাঁধুনি হতাম।’ রান্না করতে চিরকালই বড় ভালোবাসতেন তিনি। সেই ভালোবাসা জন্ম দিয়েছে ‘আশা’স নামে তাঁর রেস্তোরাঁর চেইন। দুবাই, কুয়েত, আবুধাবি, দোহা, বাহরাইন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহামে রয়েছে ‘আশা’স–এর শাখা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশিরা যেদিন থেকে পাবেন ভারতীয় ভিসা

বাংলাদেশিরা যেদিন থেকে পাবেন ভারতীয় ভিসা

ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২, মামলা দায়ের

ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২, মামলা দায়ের

স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর যা বললেন প্রণয় ভার্মা

স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর যা বললেন প্রণয় ভার্মা

ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন সাকিব আল হাসান

ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন সাকিব আল হাসান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App