সৌদির সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে ইরানের ড্রোন। এই হামলার পর সৌদি আরামকো রাস তানুরা রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ করেছে।
সোমবার (২ মার্চ) এক শিল্পসূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে রয়র্টাস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর স্থাপনায় আগুন লাগে। তবে আগুন সীমিত ছিল। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে শোধনাগারটি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি আরামকো।
রাস তানুরা কমপ্লেক্স উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম শোধনাগারগুলোর একটি। শোধনাগারটির দৈনিক পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। একই সঙ্গে এটি সৌদি অপরিশোধিত তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
ইরানের ড্রোন হামলার প্রভাব শুধু সৌদি আরবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এতে প্রভাবিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুদাবি, দুবাই, কাতারের দোহা, বাহরাইন এবং ওমানসহ বেশ কিছু দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিপিং হাবেও হামলা চালানো হয়েছে।
আরো পড়ুন : ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এর আগেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে এবং খুরাইস তেল ক্ষেত্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
