ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ শীর্ষ ৪ কর্মকর্তা নিহত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত হামলায় দেশটির সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি। বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে ১২ দিনের সংঘাতে তাঁর পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর তিনি সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময় থেকেই তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
একই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারণ ও সামরিক সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আরো পড়ুন : যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে উঠলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
এর আগে ইরান আরো দুজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁদের একজন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর। তিনি ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি এর নেতৃত্বে ছিলেন। আইআরজিসি দেশটির সামরিক ও কৌশলগত কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি বাহিনী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানিও একই হামলায় নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই হামলা ছিল অত্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্বকে টার্গেট করেই পরিচালিত হয়। এতে ইরানের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এখনো হামলার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যু দেশটির প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এমন ক্ষয়ক্ষতি ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরো বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো বলছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহল গভীর নজর রাখছে।
