×

মধ্যপ্রাচ্য

পশ্চিম তীরের জমি ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ ঘোষণা ইসরায়েলের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৯ এএম

পশ্চিম তীরের জমি ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ ঘোষণা ইসরায়েলের

ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে দাবি করার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইসরায়েল সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো জমির মালিকানা প্রমাণে ব্যর্থ হলে তা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারে। ইসরায়েলের এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং একে “ডি-ফ্যাক্টো সংযুক্তিকরণ” বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর আল-জাজিরার।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

স্মোট্রিচ এই পদক্ষেপকে সমস্ত ভূমির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বসতি স্থাপন বিপ্লবের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে লেভিন বলেন, এটি দেশের সব অংশের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ভূমির মালিকানা নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার পথ খুলে গেছে, যা ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে স্থগিত ছিল। নতুন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট এলাকায় নিবন্ধন শুরু হলে জমির দাবিদারদের মালিকানার কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তবে দীর্ঘ দখলদারিত্ব ও যুদ্ধের কারণে বহু নথি হারিয়ে যাওয়ায় ফিলিস্তিনিদের জন্য মালিকানা প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। ফলে হাজারো মানুষ জমির অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

আরো পড়ুন : গাজায় থামছে না লাশের মিছিল, আরো ১১ জনের প্রাণহানি

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও গুরুতর উত্তেজনা সৃষ্টি বলে নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

হামাসও এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, এটি পশ্চিম তীরের জমি দখল ও ইহুদিকরণ করার প্রচেষ্টা। তাদের ভাষ্য, এটি অবৈধ দখলদার শক্তির অবৈধ সিদ্ধান্ত।

এই সিদ্ধান্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে অবৈধ বসতি নির্মাণ বৃদ্ধি, আউটপোস্ট বৈধকরণ এবং প্রশাসনিক নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

পরিকল্পনাটি পশ্চিম তীরের এরিয়া সি অঞ্চলে প্রয়োগ করা হবে। ১৯৯০-এর দশকে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তি অনুযায়ী অঞ্চলটি তিন ভাগে বিভক্ত করা হয় এবং এরিয়া সি বর্তমানে পুরোপুরি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখানে প্রায় তিন লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন এবং আশপাশের আরো অনেক মানুষ কৃষি ও চারণভূমির জন্য এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল।

ইসরায়েলি বসতিবিরোধী সংগঠন পিস নাউ এই প্রক্রিয়াকে সম্ভাব্য বৃহৎ জমি দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির সেটেলমেন্ট ওয়াচ কর্মসূচির পরিচালক হাগিত অফরান বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এরিয়া সি-এর প্রায় ৮৩ শতাংশ জমির ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হতে পারে, যা পশ্চিম তীরের প্রায় অর্ধেক। তিনি বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলতি বছরই শুরু হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত অঞ্চলের জমি বাজেয়াপ্ত বা সেখানে বসতি স্থাপন করতে পারে না, এই সিদ্ধান্ত সেই আইনের পরিপন্থী। পশ্চিম তীরভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাভিয়ের আবু ঈদ বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আড়ালে সংযুক্তিকরণ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশও এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। জর্ডান, কাতার, মিশর ও তুরস্ক সবগুলো দেশই এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছেন।

বর্তমানে পশ্চিম তীরে সাত লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন। এদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ সালের এক পরামর্শমূলক মতামতে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও বসতি স্থাপন অবৈধ এবং তা দ্রুত বন্ধ করা উচিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জুম্মার দিন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাইরেনের শব্দ

জুম্মার দিন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাইরেনের শব্দ

খড় পোড়ানোর আগুনে ২০ বিঘা জমির গম পুড়ে ছাই

খড় পোড়ানোর আগুনে ২০ বিঘা জমির গম পুড়ে ছাই

পেট্রোল পাম্পে পুলিশ সদস্যের উপর হামলা

পেট্রোল পাম্পে পুলিশ সদস্যের উপর হামলা

কোটি টাকার মালামালসহ ডাকাত দলের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

কোটি টাকার মালামালসহ ডাকাত দলের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App