×

গণমাধ্যম

ড. ইউনূসের শাসনামলে ৪৯৬ সাংবাদিক নির্যাতন, জামিন সংকটে অনেকে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

ড. ইউনূসের শাসনামলে ৪৯৬ সাংবাদিক নির্যাতন, জামিন সংকটে অনেকে

ছবি : সংগৃহীত

২৪ এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকেই শুরু হয় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা। এই সময়ে চারজন সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন।

গত বছরের ৪ আগস্ট প্রকাশিত তথ্যে দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬৬ জনকে অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। 

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়েছে এবং চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আসকের তথ্য অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও বিভিন্নভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আরো পড়ুন : কারাবন্দি ৪ সাংবাদিকের মুক্তি চেয়ে সিপিজের চিঠি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে তাদের বিভিন্ন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তারা কারাগারে থাকলেও এখনো জামিন পাননি।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তারা এখনো কারাগারে রয়েছেন। তাদের জামিন আবেদন একাধিকবার নাকচ হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে কারাগারে আছেন। একই বছরে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়, যার চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় মাইটিভির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দীনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া এসব সাংবাদিক মাসের পর মাস কারাগারে বিনা বিচারে বন্দি রয়েছেন। বারবার জামিন আবেদন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিকরা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে ঢালাওভাবে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে নাম ধরে আসামি করা ন্যায়বিচারের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ বিষয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বিনা বিচারে কাউকে আটক রাখা এবং দীর্ঘদিন জামিন না দেওয়া সমীচীন নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গভবনের সামনে দায়িত্ব পালন করা একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহনাজ শারমীনকেও একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং একই সময়ে দুই স্থানে থাকা সম্ভব নয়।

এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি নয়, গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন হত্যা ও সহিংসতার মামলায় অনেক সাংবাদিককে ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছে। অনেকেই এখনো মামলার বোঝা বহন করছেন এবং কারাগারে থাকা সাংবাদিকদের অনেকে জামিন পাচ্ছেন না।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতিও দেখা গেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিন পেয়েছেন। এছাড়া শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন ও মঞ্জুরুল আলম (পান্না) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), যা অন্যদের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই, তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

কারাবন্দি সাংবাদিকদের জামিন প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো সংবেদনশীল এবং প্রতিটি মামলা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, আর প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘আমলাদের অপকর্মে ফ্যামিলি কার্ড থেকে গরীবরা বঞ্চিত’

‘আমলাদের অপকর্মে ফ্যামিলি কার্ড থেকে গরীবরা বঞ্চিত’

জিহাদি ড্রাগ ‘ক্যাপ্টাগন’ উদ্ধারের ঘটনায় ভারতে তোলপাড়

জিহাদি ড্রাগ ‘ক্যাপ্টাগন’ উদ্ধারের ঘটনায় ভারতে তোলপাড়

বৈশ্বিক উষ্ণতা কেড়ে নিচ্ছে মিঠাপানির অক্সিজেন

বৈশ্বিক উষ্ণতা কেড়ে নিচ্ছে মিঠাপানির অক্সিজেন

শহীদ মিনারে কারিনার তৃতীয় জানাজায় মানুষের ঢল

শহীদ মিনারে কারিনার তৃতীয় জানাজায় মানুষের ঢল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App