আদালতে এসে ন্যায় বিচার চাইলেন রামিসার বাবা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হয়ে ন্যায়বিচার চাইলেন বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে তিনি বলেছেন, “আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়।”
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুল হান্নান বলেন, “আমি আদালতের কাছে প্রত্যাশা করি, আমার মাসুম বাচ্চার নৃশংস হত্যাকাণ্ড, বর্বরোচিত ধর্ষণের ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার চাই। সেই বিচারের দ্রুত কার্যকারিতা চাই। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়। কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন ভেঙে না যায়।
“কোনো বাবা-মাকে যেন আদালতের বারান্দায় এসে না দাঁড়াতে হয়। আমি সরকার, বিরোধীদলের কাছে অনুরোধ করব, আমরা সংসদের এমন একটা আইন পাস করুন- যাতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার এক মাসের মধ্যে রায় হতে হবে। সেটা কার্যকর হবে। এটাই প্রত্যাশা করি, দেশবাসীও এটা প্রত্যাশা করে।”
এদিন আদালতে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিবেন। এসব সাক্ষীর মধ্যে রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।
এদিকে, সকাল পৌনে নয়টায় মামলার প্রধান আসামী সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে। তাদের ঢাকা মহানগর আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
এর আগে সোমবার আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এমামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, একই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল রানা শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ বিকৃত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
