শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি মামুন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং র্যাবে দায়িত্ব পালনকালে কথিত ক্রসফায়ার সংক্রান্ত একাধিক মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য আসামিদের নাম এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ একাধিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থা কাজ করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরে সংঘটিত এই ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস, যা বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে, সেটি বেসামরিক ব্যক্তি হোক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
আরো পড়ুন : মানবতাবিরোধী অপরাধ: নানক-তাপসের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। গত ৫ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল নতুন করে ৭ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এ মামলায় ইতোমধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা হিসেবে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে এ মামলায় আসামি করা হতে পারে।
অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। একই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
