ফের ২ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
গত ১০ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। এছাড়া গত ২৯ এপ্রিল আদাবর থানাধীন এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান একই আবেদন করেন। আদালত উভয় শুনানি পৃথকভাবে তার উপস্থিতিতে করেন।
সোমবার সকালে খায়রুল হককে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় তিনি নিশ্চুপ ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। খায়রুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন যুক্তি দেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আরো পড়ুন : বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি। প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তিনি দলীয়করণ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগিতা করেছিলেন। এই কারণে মানুষের ভোটার অধিকার সীমিত হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন বলেন, খায়রুল হক একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, বয়স ৮১ বছর। ইতোমধ্যে অন্যান্য মামলায় জামিনে রয়েছেন তিনি। তবে আদালত বলেন, আজকের শুনানি শুধুমাত্র গ্রেপ্তার সংক্রান্ত, জামিন বিষয়ে আলাদা শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লর্ড হার্ডিঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র মো. আরিফ গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মামলাটি তার বাবা ২৬ আগস্ট দায়ের করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের গুলিতে গার্মেন্টস কর্মী রুবেল মারা যান। তার বাবা ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন।
খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
