সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহ। ছবি : সংগৃহীত
বাংলা সিনেমার অন্তত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ মামলায় তার স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও (লুসি) ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। ফলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন তারিখ হিসেবে ৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। সে সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। আদালত অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
আরো পড়ুন : আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে : মেহজাবীন
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমানের বাবা রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
সবশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পর ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামীরা হক ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান তার মা নিলুফার জামান চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। বাসায় ফিরে তারা দেখতে পান, শয়নকক্ষে সালমান নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলচে দাগ দেখা যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।
সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করছেন তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
