সুন্দরবনে ৫ কার্গো জাহাজে গুলি-লুটপাট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এমভি আব্দুল হাকিম-১ নামের একটি কার্গো জাহাজে গুলি ও লুটপাট চালিয়েছে বনদস্যুরা। একইসঙ্গে আরও চারটি জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিষয়টি জানতে পারেনি বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার (৭ জুন) রাতে সুন্দরবনের শিবসা নদী পেরিয়ে শিংয়েরনালা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রোটোকলের অধীনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা ও শিবসা নদী পেরিয়ে ভারতে যায় নৌযানগুলো। জাহাজগুলো হলো: এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আ. হাকিম, এমভি আরিয়ান ছালাম এবং এমভি আব্দুল হাকিম-১।
বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রোটোকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, জাহাজগুলো খালি ছিল। এগুলো ভারতে থেকে ফ্লাইঅ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল) আনতে যাচ্ছিল। শনিবার বেলা ২টার দিকে জাহাজগুলো মোংলা বন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
তিনি বলেন, শেখবাড়িয়া থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে থাকার সময় ডাকাতরা হানা দেয়। ‘শিবসা নদী পেরিয়ে শিংয়েরনালাখালের ভেতর ঢুকামাত্র ডাকাত দল ধাওয়া করে। সামনে থাকা চারটি জাহাজ এগিয়ে গেলেও সবার পেছনে থাকা এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহাজে ওঠে ডাকাতরা।’
এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহাজের ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবীর বরাতে সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ট্রলারে আসা আনুমানিক ১০-১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাত জাহাজের বাম পাশ থেকে উপরে ওঠে। তারা নিচে থাকা স্টাফদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে। টের পেয়ে মাস্টার তাৎক্ষণিক মাস্টার ব্রিজের সব গেট আটকে দেন।
ডাকাতরা মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে গেটের দরজায় প্রায় ১৫-২০ রাউন্ড গুলি চালায়। তারা প্রায় ১৫ মিনিট জাহাজে অবস্থান করে এবং স্টাফদের মুঠোফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
নৌযান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ-ভারত রুটে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে শ্রমিকদের নিরাপত্তা চাই। এমন ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই পথে আর চলতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘জোয়ার-ভাটা হিসাব করে আমাদের জাহাজ চলাচল করতে হয়, এতে সকাল-সন্ধ্যা হতে পারে। নদীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভারত-বাংলাদেশ এই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।’
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন, তবে কোনো অভিযোগ পাননি। খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানাও এ ধরনের কোনো তথ্য জানা নেই বলে দাবি করেছে।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোস্টগার্ডের কোনো বিবৃতিও পাওয়া যায়নি।
