খাল খননে অনিয়ম, পরিদর্শনে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় খাল পুনঃখনন পরিদর্শন করেন ইউএনও
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের পর সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কাজের অসঙ্গতি পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় রাঢ়ি বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া খালের বিভিন্ন অংশে ফিতা দিয়ে মাপ নেন ইউএনও। এ সময় নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থের পরিবর্তে কোথাও ২৬ থেকে ২৮ ফুট পাওয়া যায়। পরিদর্শনে রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার খাল পুনঃখননে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলায় ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্থানীয় কৃষক ও সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেন, শিডিউল অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খনন না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে নালার মতো আকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে খাল পুনঃখনন নয়। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে প্রত্যাশিত সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা।
তাঁরা আরও জানান, খনন কাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু যথাযথ খনন না হওয়ায় সেচ সুবিধা কিংবা মাছ চাষের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে। খালের পাড় তির্যকভাবে কাটায় ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও রিফাত আরা মৌরি সাংবাদিকদের বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেসব স্থানে প্রস্থ কম মনে হয়েছে, সেখানে মাপ নিয়ে ৩০ ফুট পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।”
