ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে চার পুলিশসহ আহত ১২
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম এবং রামনগর কলেজের অধ্যক্ষ ও বিএনপি নেতা মোকলেচুর রহমান (পিন্টু মিয়া) ও মতি মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ মেটাতে সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। সভা চলাকালে বিবদমান পক্ষের নেতাকর্মীরা বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তা চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। উত্তেজিত কর্মীরা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে এক পক্ষের নেতাকর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে থানা চত্বরে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে ঢুকে লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইটপাটকেল ও ধস্তাধস্তিতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বিপুল হোসেন, পান্নু হোসেন, তুহিন ও ফজলুর রহমান। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর কালীগঞ্জ পৌর শহর ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সমন্বয় সভার উদ্যোক্তা রাশেদ খাঁন জানান, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোর উদ্দেশ্যেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই হামলার ঘটনা দুঃখজনক। তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
কালীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থানা চত্বরে ঢুকে হামলার চেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
