শুধু হাতের ওপর ভর করেই মাউন্ট এভারেস্ট জয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দুই পা হারানোর পর অনেকেই যেখানে জীবন থেমে গেছে বলে মনে করেন, সেখানে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন রাশিয়ার এক পর্বতারোহী। তার নাম রুস্তাম নাবিয়েভ। সাবেক এই রুশ সেনাসদস্য কৃত্রিম পা ছাড়াই শুধুমাত্র দুই হাতের ওপর ভর করে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়েছেন। মানব ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি দুই পা না থাকা অবস্থায় এভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রুস্তাম নাবিয়েভ চলতি বছরের নেপালের বসন্তকালীন পর্বতারোহণ মৌসুমে গত বুধবার (২০ মে) এভারেস্ট জয় করেন।
ঐতিহাসিক এই অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভারেস্টের চূড়ায় নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে থাকা একটি ফলকে লেখা ছিল- “যারা মনে করেন পড়ে যাওয়ার পর জীবন শেষ, তাদের জন্য। রুস্তাম নাবিয়েভ, এভারেস্ট ২০২৬।”
নাবিয়েভ জানান, বুধবার স্থানীয় সময় সকালে তিনি চূড়ায় পৌঁছান। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা তার অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে এই অর্জন উৎসর্গ করেন।
ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “নেপাল সময় অনুযায়ী ২০ মে সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে আমি শুধু দুই হাতের সাহায্যে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছি। এটি পর্বতারোহণ ও মানব ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়।”
তিনি আরো লেখেন, “আমি এই অর্জন উৎসর্গ করছি সবাইকে, যারা আমাকে অনুসরণ করেন। শুধু একটি কথাই বলতে চাই— যতক্ষণ জীবন আছে, ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করুন, কারণ এই সংগ্রাম মূল্যবান।”
এভারেস্ট বেসক্যাম্পের ফিল্ড অফিস সমন্বয়ক খিম লাল গৌতম তার এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফলভাবে এভারেস্ট জয় করার পর নাবিয়েভ বেসক্যাম্পে ফিরে আসছেন।
২০১৫ সালে একটি সামরিক ব্যারাক ধসে পড়ার ঘটনায় দুই পা হারান রুস্তাম নাবিয়েভ। তবে সেই দুর্ঘটনায় ভেঙে না পড়ে তিনি পুনর্বাসনের পথ হিসেবে বেছে নেন আউটডোর কার্যক্রম ও পর্বতারোহণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই অসাধারণ মানসিক শক্তি ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করছেন অনেকেই। কেউ লিখেছেন, “অভিনন্দন! এক মুহূর্তের জন্যও আপনার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ হয়নি।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “আপনি সত্যিই অসাধারণ। আপনার এই অর্জন আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।”
আরেকজন লেখেন, “আপনার এই জয় প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবকেও জয় করা সম্ভব।”
