যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র দিয়ে একদিন যুক্তরাষ্ট্রেই হামলা করবে ইরান?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
যুদ্ধক্ষেত্রে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি অস্ত্র এখন ইরানের সামরিক গবেষণাগারে। এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ হয়তো গড়ে তুলবে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্প্রতি হরমোজগান প্রদেশ থেকে অন্তত ১৫টি ভারী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা। প্রায় ১৩ হাজার কেজি ওজনের এই বোমা ২০০ ফুট মাটি বা ১৮ মিটার পুরু কংক্রিট ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। এ ছাড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, এজিএম-১৫৮ ক্ষেপণাস্ত্র ও এমকিউ-৯ ড্রোনের অংশবিশেষও ইরানের হাতে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের কট্টরপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এসব অস্ত্র এখন কারিগরি ও গবেষণা ইউনিটের হাতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এখন এসব অস্ত্রের ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ অস্ত্রের নকশা ও কার্যপদ্ধতি বুঝে নিয়ে একই ধরনের দেশীয় প্রযুক্তি তৈরি করবে তারা।
এ ক্ষেত্রে ইরানের অতীত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরকিউ-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন কবজা করার পর সেই আদলেই নিজস্ব ড্রোন তৈরি করেছিল তারা। বর্তমানে আলোচিত ‘শাহেদ’ ড্রোনের সাফল্যের পেছনেও সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে। এর আগে মার্কিন ‘হক’ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি অনুসরণ করেও নিজেদের সংস্করণ তৈরি করেছিল তেহরান।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান যদি এসব উন্নত অস্ত্রের প্রযুক্তিগত কাঠামো বুঝে ফেলে, তবে মার্কিন হামলা ঠেকানো তাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। এমনকি এই তথ্য রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে ভাগাভাগি করলে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক উপস্থাপক সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এসব প্রযুক্তি একদিন ‘উপহার’ হিসেবেই প্রতিপক্ষকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ শত্রুর অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ইরান।
