তেহরানে কুদস দিবসের মিছিলে বিস্ফোরণ, নিহত ১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়োজিত আল-কুদস দিবসের মিছিলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বার্ষিক এই কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেই এই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইরানজুড়ে টানা ১৪ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার মাঝেই এ ঘটনা ঘটলো। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
আরো পড়ুন: কুদস দিবসে ইরানে লাখো মানুষের মিছিল
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিতে তেহরানের একটি চত্বর বড় ধরনের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। ফেরদৌসি চত্বরে হওয়া এই বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ইসরায়েল ওই এলাকায় হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লোকজনকে সরে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই এ ঘটনা ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় স্প্লিন্টারের আঘাতে এক নারী নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি। এদিকে আল জাজিরা তেহরানে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশের মাত্র কয়েক মিটার দূরে বিমান হামলার খবর দিয়েছে। তবে হামলাটি ঠিক কোথায় হয়েছে বা এতে কোনও হতাহত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন।
চলমান হামলার মধ্যেই তেহরানসহ অন্যান্য শহরে কুদস দিবসের কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম দেখা গেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির আহ্বানে রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে ইরান।
তেহরানের মিছিলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে দেখা গেছে। লারিজানি দাবি করেন, ইসরায়েল ভয়ে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানেন না যে ইরানিরা একটি শক্তিশালী, সচেতন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জাতি। তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মিছিলে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রীও অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা ইরানি পতাকা এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি নিয়ে ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দেন। আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, এবারের আয়োজনটি কেবল ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানোই নয়, বরং দেশের ওপর চলমান হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশেরও একটি মুহূর্ত।
গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশবাসীকে রেকর্ড সংখ্যায় রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে ইরানের শত্রুদের হতাশ করতে হবে।
