জেলেনস্কি
ইরানি ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের সহায়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের কাছে সহায়তা চেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনের ওই অনুরোধের পর তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।’
বার্তা সংস্থা টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাশিয়ার চার বছরের সামরিক অভিযান মোকাবিলা করতে গিয়ে ইউক্রেন নিজস্ব উদ্ভাবনে স্বল্প খরচে অত্যন্ত কার্যকর ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি গড়ে তুলেছে। আকাশে ধেয়ে আসা হামলাকারী ড্রোনকে মাঝপথেই ধ্বংস করতে সক্ষম এসব 'ড্রোন ইন্টারসেপ্টর' প্রযুক্তিকে কিয়েভ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও নিখুঁত প্রযুক্তি হিসেবে দাবি করছে।
গত মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কাছে একটি বিশেষ বিনিময় প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে থাকা কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বিনিময়ে ইউক্রেন এসব ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি দিতে পারে, যা ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় আরও কার্যকর হতে পারে।’
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ‘শাহেদ’ ড্রোনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় নির্দিষ্ট সহায়তার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েছি।’
তিনি যে ‘শাহেদ’ ড্রোনের কথা বলেছেন, ‘তা ইরানের নকশায় তৈরি এবং রাশিয়াও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সেগুলো ব্যবহার করছে।’
রাশিয়া থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর প্রতিনিয়ত লণ্ডভণ্ড হচ্ছে। এসব হামলায় আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’
ওয়াশিংটন যখন মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের কাছে সহায়তা চাচ্ছে, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
ট্রাম্পের দাবি, জেলেনস্কি ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা করছেন।
রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে এখন সক্রিয় হতে হবে এবং একটি সমঝোতা করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা অকল্পনীয় যে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়াবেন। আপনার হাতে তেমন কোনও শক্তি নেই। এখন তার হাতে আরও কম শক্তি আছে।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসে প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ ইউক্রেনের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া।
