মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিপক্ষে ৬৮ শতাংশ স্প্যানিশ নাগরিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার বিরুদ্ধে স্পেনের সিংহভাগ মানুষ অবস্থান নিয়েছে।
সম্প্রতি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এল পাইস-এর পক্ষ থেকে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, স্পেনের ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ নাগরিক এই যুদ্ধের ঘোর বিরোধী। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা সরাসরি এই সামরিক পদক্ষেপের বিপক্ষে তাদের কঠোর অসম্মতি জানিয়েছেন এবং ২৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ এই সংঘাতের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, মাত্র ৮ শতাংশ নাগরিক এই যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন এবং ১৫ দশমিক ২ শতাংশ কিছুটা একমত পোষণ করেছেন। স্পেনের এই জনমত এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন দেশটির সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আন্দালুসিয়ায় অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কেবল ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতেই অস্বীকার করেননি, বরং তিনি এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। গত বুধবার এক বক্তব্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতকে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ‘রাশিয়ান রুলেট’ খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সানচেজ স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো দেশের প্রতিশোধের ভয়ে স্পেন এমন কোনো কাজে অংশ নেবে না যা বিশ্বের জন্য অমঙ্গলজনক এবং তাদের মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো চাপের মুখেই তাঁর দেশ এই যুদ্ধের অংশীদার বা সহযোগী হবে না। সানচেজের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে।
স্পেনের এই অসম্মতির প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পেনকে ‘পরাজিত’ এবং ন্যাটোর জন্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাবের বিপক্ষে একমাত্র স্পেনই ভোট দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্পেন দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা রাখছে না এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও স্পেনের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতামূলক আচরণ করবে না। এমনকি স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সমালোচনার তির কেবল স্পেনের দিকেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের দিকেও নতুন করে ধাবিত হয়েছে। তিনি ব্রিটিশ সরকারকে এই সামরিক অভিযানে পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ার জন্য ‘হতাশাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে স্পেনের বিষয়টি এখন ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেহেতু দেশটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না।
ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জনমতের এই প্রবল বিরোধিতা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পশ্চিমা জোটের একতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। স্পেনের সাধারণ মানুষ ও সরকার উভয়ই এই মুহূর্তে যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১২৩–এ দাঁড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সোমবার ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১২৩–এ দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৬৮৩ জন।’
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে যে তাঁদের উত্তরের সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটারের (৩ দশমিক ১১ মাইল) মধ্যে থাকা শহরগুলো থেকে সরে যেতে হবে।
