ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
বাড়ল তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং ধস নেমেছে শেয়ারবাজারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলার ও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়নের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, আর পতন ঘটছে পুঁজিবাজারে।
এশিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দর সোমবার সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, দিনের পরের ভাগে তা স্থিতিশীল হয়। আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে এশিয়ার পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যচ্ছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ১.৫ শতাংশ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ বাজার সময়ের বাইরে লেনদেন হওয়া স্টক ফিউচারের বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, যা ওয়াল স্ট্রিটে অস্থির দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচকের প্রায় ০.৭ শতাংশ কমেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং এর জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ববাজারের নজর এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী–এর দিকে। কারণ এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পথটি বন্ধ না হলেও নিরাপত্তা শঙ্কা, বীমা জটিলতা এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিওনের মতে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। দ্রুত উত্তেজনা না কমলে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী পুনর্মূল্যায়নের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস এপ্রিল মাসের জন্য প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেই তেল নিরাপদে রপ্তানি করা যাবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭০–এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার সময়কার পরিস্থিতির তুলনা করছেন, যখন তেলের দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছিল।
