মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রযুক্তি উদ্যোগে যোগ দিলো ভারত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খল সহযোগিতা জোরদার করতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ 'প্যাক্স সিলিকা'-তে যোগ দিয়েছে ভারত।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এই জোটের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নয়াদিল্লি।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এর ফাঁকে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এস. কৃষ্ণান ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। গত ডিসেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই উদ্যোগ চালু করে, যার মূল লক্ষ্য হলো এআই অবকাঠামোর জন্য অপরিহার্য সিলিকন-ভিত্তিক প্রযুক্তির বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে এই স্বাক্ষর একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিছক সুযোগের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে না। বরং, এটি সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে স্বাধীনতা, অংশীদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিস্থাপকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলো নেতৃত্ব দেবে।’
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই যোগদানকে ‘কৌশলগত এবং অপরিহার্য" বলে অভিহিত করেছেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্যাক্স সিলিকা হচ্ছে সেই জোট, যা একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শৃঙ্খলা নির্ধারণ করবে। এটি সম্পূর্ণ সিলিকন প্রযুক্তি পরিধিকে (স্ট্যাক) সুরক্ষিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে—গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলনের খনি থেকে শুরু করে চিপ উৎপাদনের কারখানা এবং সীমান্তবর্তী এআই স্থাপনার ডেটা সেন্টার পর্যন্ত।’
২০২৪ সালে ভারত সরকার ‘ইন্ডিয়াএআই মিশন’ চালু করে, যা দেশে এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি উদ্যোগ। এই সপ্তাহে নয়াদিল্লি পাঁচ দিনব্যাপী 'ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬'-এর আয়োজন করে, যেখানে ৬০টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটেরি অর্পো এবং আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানসহ ২০ জন রাষ্ট্রপ্রধান এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জোটে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে ভারত ব্যাপক সুবিধা পাবে। সাইবার নিরাপত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তি নীতি উপদেষ্টা সুবিমল ভট্টাচার্য আরব নিউজকে বলেন, ‘প্যাক্স সিলিকায় যোগ দেওয়ার ফলে ভারত বৈশ্বিক এআই শৃঙ্খলা গঠনে একটি প্রভাবশালী অবস্থান পাবে। সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলনে আরও ভালো প্রবেশাধিকার লাভ করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক-নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।’
‘দ্য ডিজিটাল ডিকেডস’ বইয়ের লেখক ভট্টাচার্য আরও উল্লেখ করেন, ভারত এই জোটে বিপুল এআই ও সফটওয়্যার প্রতিভা, একটি বৃহৎ দেশীয় ডেটা বাজার এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে আসছে। তিনি বলেন, গ্লোবাল সাউথে প্রথম বৈশ্বিক এআই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে দিল্লি প্রমাণ করেছে যে তারা এআই শাসনে শুধু ভোক্তা নয়, বরং নীতি নির্ধারক হতে চায়।
তক্ষশীলা ইনস্টিটিউশনের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রণয় কোটাস্থানের মতে, প্যাক্স সিলিকা ‘এআই যুগের জন্য একটি প্রযুক্তি জোট" হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যা চিপস, কম্পিউট শক্তি, এআই অবকাঠামো এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি বলেন, "বিশ্বের চিপ ডিজাইন প্রতিভার প্রায় ২০ শতাংশই ভারতীয়। প্রায় ৩০,০০০ প্রকৌশলী প্রতি বছর প্রায় ৩,০০০ চিপ ডিজাইন করছেন। প্যাক্স সিলিকার সদস্যপদ ভারতকে কম্পিউট শক্তি, মডেল এবং বাজারের বিশ্বস্ত বাস্তুতন্ত্রে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। ভারত সবসময়ই এই প্রযুক্তি স্ট্যাক থেকে মূল্য অর্জন করেছে, সদস্যপদ নিশ্চিত করবে যে এটি প্রভাবও অর্জন করছে।’
