অর্ধশতাব্দী পর আবারো চাঁদে যাচ্ছে মানুষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানবজাতিকে পুনরায় চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ৬ মার্চ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি শক্তিশালী রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই রোমাঞ্চকর অভিযানের যাত্রা শুরু হবে। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এটি একটি নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে।
ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনে চারজন নভোচারী চন্দ্রযানে চড়ে চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে উপগ্রহটিকে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। নাসা জানিয়েছে, প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারলেও বর্তমানে আগামী ৬ মার্চ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই অভিযানের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে কেনেডি স্পেস সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ বা জ্বালানি ভরার মহড়া। গত বৃহস্পতিবার রাতের এই পরীক্ষায় রকেটে ৭ লাখ গ্যালনেরও বেশি তরল জ্বালানি ভরা হয়। যদিও চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফার মহড়ায় হাইড্রোজেন লিকেজের কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল, তবে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রকৌশলীরা সেই ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। এই সাফল্যকে চাঁদে ফেরার পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন নাসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দীর্ঘ ৫৪ বছর পর চাঁদের কক্ষপথে ফিরছে মানবজাতি। ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনে অংশ নিতে যাওয়া চারজন সাহসী মহাকাশচারী হলেন— রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানে নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন এবং এরপর চাঁদের চারপাশে ‘ফিগার-এইট’ (Figure-8) আকৃতির পথে উড্ডয়ন করবেন। তবে বর্তমান কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না।
এই অভিযানের অন্যতম আকর্ষণ হলো দূরত্বের রেকর্ড। চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করার সময় নভোচারীরা অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ ভ্রমণকারী হিসেবে নিজেদের নাম লেখাতে পারেন। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এটিই হবে চাঁদের কক্ষপথে মানুষের প্রথম পদযাত্রা।
নাসার এই মিশনকে মূলত ভবিষ্যতের মঙ্গল গ্রহে অভিযানের একটি প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্টেমিস-২ সফল হলে ২০২৭ বা ২০২৮ সালের দিকে ‘আর্টেমিস-৩’ মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর মানুষ সরাসরি চাঁদের মাটিতে পা রাখবে। উল্লেখ্য যে, চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করায় মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এই মিশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে নাসা।
