দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ইমরান খানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আদিয়ালা জেলে বন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করেছে সরকারি মেডিকেল বোর্ড।
সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিক চিকিৎসার ফলে ইমরান খানের চোখের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হতে শুরু করেছে।
গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি পিআইএমএস হাসপাতালের চিকিৎসক ড. আরিফের তত্ত্বাবধানে তার চোখে একটি বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, যার ইতিবাচক ফলাফল এখন দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্যানেল প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তার চোখসহ সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইমরান খানের চোখের অবস্থার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে দ্বিতীয় ইনজেকশন দেওয়া হতে পারে। তবে তাকে বর্তমানে হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তাদের চূড়ান্ত মতামত দেবেন।
মেডিকেল বোর্ডের এই আশাব্যঞ্জক প্রতিবেদনের বিষয়টি ইতোমধ্যে বিরোধী দলীয় নেতাদের জানানো হয়েছে। তবে পিটিআই এই সরকারি মেডিকেল রিপোর্টটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির দাবি, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে করা এই পরীক্ষা তারা গ্রহণ করবে না।
ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে ইসলামাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিরোধী দলগুলোর অবস্থান কর্মসূচি সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। মাহমুদ খান আচাকজাই, ব্যারিস্টার গোহর আলী খান এবং আসাদ কায়সারের নেতৃত্বে পার্লামেন্ট হাউসের ভেতরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন।
এদিকে পার্লামেন্ট লজ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া হাউসেও পিটিআই সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইমরান খানকে অবিলম্বে জেলখানা থেকে সরিয়ে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।
বিক্ষোভের কারণে পার্লামেন্ট লজ সংলগ্ন রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি পার্লামেন্ট লজের ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ করে দেওয়ায় অবস্থানরত সদস্যদের খাবার ও পানীয় পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তবে পিটিআই নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের নেতার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই রাজপথের লড়াই থামবে না।
