যেভাবে আপনিও হতে পারেন ডোমিনিকার নাগরিক, জানুন রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ক্যারিবীয় সাগরের নীল জলরাশির মাঝে অবস্থিত এক অনন্য দ্বীপরাষ্ট্র ডোমিনিকা। মাত্র ৭৫০ বর্গকিলোমিটারের এই দেশটিকে বলা হয় ক্যারিবিয়ানের প্রাকৃতিক দ্বীপ। রেইনফরেস্ট, জলপ্রপাত ও আগ্নেয়গিরিময় ভূপ্রকৃতির জন্য পরিচিত এই দেশটি বর্তমানে পর্যটক এবং উন্নত জীবনের সন্ধানে থাকা মানুষের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
এক নজরে ডোমিনিকা
ক্যারিবীয় অঞ্চলে পুয়ের্তো রিকো ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মাঝামাঝি অবস্থান ডোমিনিকার। প্রায় ৭৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার। ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। সৈকতের চেয়ে সবুজ পাহাড়ি বনাঞ্চল ও ইকো-ট্যুরিজমের জন্য ডোমিনিকা বিশেষভাবে পরিচিত।
ডোমিনিকার রাজধানী রোসো। দেশটির অন্যতম বড় আকর্ষণ বিশাল রেইনফরেস্ট ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি অঞ্চল। এখানে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বয়লিং লেক, যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। ইকো-ট্যুরিজমের জন্য বর্তমানে ডোমিনিকা বিশ্বের জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি।
কেন ডোমিনিকা বেছে নিচ্ছেন অনেকেই
কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকা সহজ নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া ও শক্তিশালী পাসপোর্টের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। উন্নত জীবনযাপন, ব্যবসা বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগের কারণে অনেকেই দেশটির নাগরিকত্বে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ডোমিনিকার পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায়। এর মধ্যে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশ, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও হংকং রয়েছে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায়
- ডোমিনিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার দুটি প্রধান পথ রয়েছে—
- সরকারি তহবিলে অনুদান প্রদান
- অনুমোদিত রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে বিনিয়োগ
- এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় সিটিজেন বাই ইনভেস্টমেন (সিবিআই)।
নাগরিকত্বের সুবিধা
ডোমিনিকার নাগরিকত্বের মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ পাওয়া যায়। বিদেশে উপার্জিত আয় বা উত্তরাধিকার সম্পদের ওপর কোনো কর দিতে হয় না। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য দেশটিতে বসবাসের বাধ্যবাধকতাও নেই।
সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে এবং কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। বিনিয়োগের অর্থের উৎসও স্বচ্ছ হতে হবে।
২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পেতে ন্যূনতম প্রায় ২ লাখ মার্কিন ডলার সরকারি তহবিলে অনুদান বা রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ করতে হয়।
দুর্যোগের পর নতুন অর্থনৈতিক পথ
কয়েক বছর আগে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ডোমিনিকা সরকার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব কর্মসূচিকে জোরদার করে। বর্তমানে এই কর্মসূচি দেশটির জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখছে। ২০০৯ সাল থেকে নাগরিকত্ব কর্মসূচির মাধ্যমে ডোমিনিকা ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে।
নিরাপত্তা ও সমালোচনা
দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার এই প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কিছু নিরাপত্তা উদ্বেগও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থা কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছে। ডোমিনিকা সরকার জানিয়েছে, অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না এবং কঠোর ডিউ-ডিলিজেন্স প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
জলবায়ু সহনশীল রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য
হারিকেনপ্রবণ দেশ হওয়ায় ডোমিনিকা নিজেকে বিশ্বের প্রথম ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট নেশন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটি টেকসই উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।
