ভারতে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ মন্ত্রিসভার অনুমোদন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিতর্কিত ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর ফলে লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি পৌরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনও একসঙ্গে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবটি পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবটি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পাস হয়। কমিটি ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৮টি সাংবিধানিক সংশোধনের সুপারিশ করেছে।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, ‘এটি দুটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে, এবং বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই এই প্রস্তাব সমর্থন করেছে। একযোগে ভোট দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে।’
তবে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, ‘এই প্রস্তাব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কার্যকর হতে পারে না। বিভিন্ন নির্বাচন দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী হওয়া উচিত।’
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের মিত্ররা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। বিশেষ করে জেডি (ইউ) এবং চিরাগ পাসোয়ানের পার্টির মতো মিত্র দলগুলো একযোগে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং আম আদমি পার্টিও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তারা বলছে, মোদী সরকারের এই প্রস্তাব গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী এবং ক্ষমতাসীন দলকে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে।
আরো পড়ুন: রাহুল গান্ধীকে হুমকি, পুলিশে কংগ্রেসের অভিযোগ
তবে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একে ‘গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বিজেপি দাবি করছে, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ চালু হলে ঘন ঘন নির্বাচনের কারণে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হবে না। ভারতের লোকসভা নির্বাচন ২০২৯ সালে হওয়ার কথা রয়েছে, তবে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বাস্তবায়িত হলে তা আরো আগে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
