গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৭ এএম
গাজায় শিশুসহ নিহত ১৫। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার নুসেইরাত ও খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় ৫ শিশুসহ কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নুসেইরাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার নুসেইরাতের একটি বাড়িতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বর্বর বোমা হামলা চালায়। এতে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে জানানো হয়েছিল, নুসেইরাতের ক্যাম্প ১ এলাকায় বোমা হামলা চালানোর পর একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
এদিকে খান ইউনিসের কাছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বোমা হামলায় আরো চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পূর্বে আবাসান শহরে একটি বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় চারজন নিহত ও আরো তিনজন আহত হয়েছেন।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরো ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ হাজার ৬৬৪ জনে পৌঁছেছে।
আরো পড়ুন : বন্ধ হয়ে গেছে ৪৬ হাজার কোম্পানি, পতনের মুখে ইসরায়েল!
দেশটির মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরো অন্তত ৮৯ হাজার ৯৭ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
