‘ডাইনি’ আখ্যা দিয়ে নারী ও শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে ‘ডাইনি’ আখ্যা দিয়ে এক নারী ও তাঁর ১০ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত নারীর স্বামীও হামলার শিকার হয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশের হেফাজতে থাকলেও তারা এখনও প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে ‘ডাইনি’ সন্দেহে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী।
গত মঙ্গলবার জ্যোতি সিনকু ও তাঁর শিশুপুত্র এ মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন। এর কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী রাজ্য বিহারেও ডাইনি অপবাদে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুন : ভারতের রাজস্থানে রাসায়নিক কারখানায় আগুন, নিহত ৭
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত পিছিয়ে পড়া আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে বেশি ঘটে, যেখানে কুসংস্কারের প্রভাব প্রবল এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে মানুষ হাতুড়ে চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল।
ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে কুদসাই নামে একটি প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রামটিতে মাত্র ৫০টি মাটির বাড়ি রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে বেশ কয়েকটি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে পুসতুন বিরুয়া নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা যান। এসব ঘটনার পর গ্রামে জাদুটোনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
পুসতুন বিরুয়ার অসুস্থতার সময় থেকেই গুজব রটতে থাকে যে, জ্যোতি সিনকু ‘ডাইনিবিদ্যা’ চর্চা করছেন। তাঁর অসুস্থতার জন্য জ্যোতিকে দায়ী করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুসতুনের মৃত্যুর পর একদল লোক জ্যোতির বাড়িতে হামলা চালায়।
দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন জ্যোতির স্বামী কোলহান সিনকু জানান, অন্তত ডজনখানেক ব্যক্তি, যার মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিলেন, তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রী ও শিশুকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুসতুনের স্ত্রী জানো বিরুয়া বলেন, তাঁর স্বামী বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান। ওই চিকিৎসক দাবি করেন, পুসতুনের কোনো শারীরিক অসুস্থতা নেই। হাসপাতালে না নেওয়ার কারণ হিসেবে জানো বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, এত দূরে নিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।’
হাসপাতালের শয্যা থেকে কোলহান সিনকু বলেন, ‘আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিলাম, বিষয়টি যেন গ্রামসভায় মীমাংসা করা হয়। কিন্তু হামলাকারীরা আমার কথা শোনেনি।’
কোলহান সিনকু ও পরিবারের আরেক সদস্যের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ হত্যা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করেছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
